মোথাবাড়ির প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গী এলাকায় রয়েছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি আবক্ষ মূর্তি। কিন্তু রাজনৈতিক দলের ফ্ল্যাগ এর দাপাদাপিতে ঢাকা পড়েছে নজরুলের সেই মূর্তিটি। অথচ প্রশাসন থেকে শুরু করে এলাকার রাজনৈতিক দলগুলিও এ বিষয়ে উদাসীন।
শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক দলের পতাকার আড়ালে ঢাকা নজরুলের আবক্ষ মূর্তিটি যেন অবহেলার এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আবক্ষ মূর্তিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, গোটা মোথাবাড়ি এলাকা মিলিয়ে একমাত্র একজন কবি বা মনীষীর মূর্তি রয়েছে। কিন্তু সেই মূর্তিটি অবহেলায় ধূলিধূসর হয়ে থাকায় ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে মোথাবাড়ির জনমানসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নিয়মিত তাঁদের দলীয় পতাকা ওই মূর্তির চারপাশে নির্মিত রেলিংয়ে টাঙিয়ে দিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে আর সেগুলি খোলার কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে মাসের পর মাস ওই ফ্ল্যাগ রেলিংয়ে ঝুলে থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন সৌন্দর্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনই নজরুলের আবক্ষ মূর্তিটি সম্পূর্ণভাবে আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মুখ ও মূর্তি আড়াল হয়ে যাওয়াকে সাংস্কৃতিক অবমাননার শামিল বলেই মনে করছেন অনেকেই। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পতাকা টাঙানো নিষিদ্ধ—এমন কোনও সতর্কতামূলক বোর্ড বা প্রশাসনিক নির্দেশও সেখানে দেখা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। তিনি জাতির গর্ব ও সম্পদ।
এলাকাবাসী প্রবীর মালাকারের দাবি, অবিলম্বে নজরুল মূর্তির নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, কোনও রাজনৈতিক দলের ফ্ল্যাগ যাতে মূর্তির চারপাশে টাঙানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। আর প্রশাসন যদি না পারে, তাহলে এলাকাবাসীরাই নিজেদের উদ্যোগে জাতীয় কবির আবক্ষ মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আমি কিছুদিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রশাসনক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কোনও রাজনৈতিক দলের ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন সেখানে টাঙানো না হয়। আর টাঙালেও অনুষ্ঠান শেষে যেন নিজেরাই খুলে নেন।”
এ বিষয়ে মোথাবাড়ির বিডিও কৈলাস প্রসাদ বলেন, “মাত্র কয়েক মাস আগে আমি এখানে এসেছি। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নেব।”
মোথাবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছেন , “সত্যিই এটা খুব খারাপ বিষয়। পরবর্তীতে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা বা ফেস্টুন টাঙানোর বিষয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করব। পাশাপাশি নজরুল ইসলামের আবক্ষ মূর্তিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে এবং সেখানে আলোর ব্যবস্থাও করা হবে। জাতে সৌন্দর্যনের কোনও খামতি না থাকে ।