নয়া জামানা, ধূপগুড়ি:
পায়ের ছাপকে কেন্দ্র করে ফের বাঘ আতঙ্ক ছড়াল ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠি এলাকায়। গধেয়ারকুঠির দক্ষিণ ঝাড় আলতাগ্রাম সংলগ্ন একাধিক চাষের জমিতে বাঘের মতো পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ার অভিযোগে চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে নাথুয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
এলাকাবাসীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই চাষের জমিতে অজানা বড় জন্তুর পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে, যা দেখতে অনেকটাই বাঘের পায়ের ছাপের মতো। আতঙ্কের জেরে বহু কৃষক জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন গ্রামের দুই গৃহবধূ দাবি করেন, তাঁরা স্বচক্ষে বাঘের মতো দেখতে একটি জন্তু দেখেছেন। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ধূপগুড়ির অন্য একটি এলাকায় বাঘের আক্রমণে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তার পর থেকেই এই অঞ্চলে বাঘ আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার খবর নাথুয়া রেঞ্জে জানানো হলে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পায়ের ছাপ পরীক্ষা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকাবাসীদের হাতে বাজি-পটকা তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মোরাঘাট রেঞ্জার চন্দন ভট্টাচার্য জানান,
পায়ের ছাপ দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে এটি চিতাবাঘের হতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে নাথুয়া রেঞ্জ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া পায়ের ছাপ বাঘের নয়। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, কয়েক মাস আগে জলঢাকার বাঁধ ভেঙে প্লাবনের সময় গধেয়ারকুঠি বনাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। সেই সময় প্রাণ বাঁচাতে বাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বন দফতর এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি।
বর্তমানে গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আতঙ্ক এড়াতে বন দফতরের তরফে নিয়মিত টহল চালানো হচ্ছে।