নয়া জামানা ডেস্ক : লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কি ফের লক্ষ্মীলাভ হতে চলেছে? নাকি সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ঘোষণা হবে বাড়তি মহার্ঘ ভাতা? আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পূর্ববর্তী শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এমন একাধিক চমকের অপেক্ষায় বাংলা। একদিকে যখন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় রাজ্যের আর্থিক দিশা ঘোষণা করবেন, ঠিক তার আগেই দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে নির্ধারিত হতে পারে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য। ডিএ মামলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা হওয়ার কথা আজ সকালেই। নবান্ন ও বিধানসভা চত্বরে কান পাতলে এখন একটাই শব্দ শোনা যাচ্ছে, ‘সুখবর’। আজ দুপুর আড়াইটায় বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার আগে বেলা সাড়ে ১২টায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হবে অধিবেশন। নবান্ন সূত্রে খবর, ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে বড়সড় বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষত, রাজ্যের নারীশক্তির মন পেতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক অনুদান আরও বাড়ানো হতে পারে। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই প্রকল্প শাসকদলের তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য ফের ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ঘোষণা হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গত বছরও বাজেটে একই হারে ডিএ বাড়ানো হয়েছিল। এবারও সেই ধারাই বজায় থাকতে পারে। তবে কর কাঠামোয় বড় কোনও রদবদলের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে আজ সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ডিএ মামলার রায় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের বেঞ্চ। বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের দেওয়া ‘অধিকার নয়’ যুক্তি বনাম কর্মীদের ‘প্রাপ্য’ লড়াইয়ের যবনিকাপাত ঘটতে পারে আজই। এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সেই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে জানিয়েছিল, ‘সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করতে আরও ছয় মাস সময় দরকার।’ রাজ্য ও কর্মচারী সংগঠনের সব সওয়াল শোনার পর আজ রায় ঘোষণা করবে শীর্ষ আদালত। একদিকে ডিএ-র আইনি লড়াই আর অন্যদিকে বাজেটের ঝুলি— সব মিলিয়ে আজ বঙ্গবাসীর নজর আটকে মেগা বৃহস্পতিবারে।