ব্রেকিং
  • Home /
  • প্রথম পাতা /
  • পাহাড়ে বৈঠক বয়কট অনিতের, মমতার ‘ভয়’ দেখছে পদ্ম শিবির

পাহাড়ে বৈঠক বয়কট অনিতের, মমতার ‘ভয়’ দেখছে পদ্ম শিবির

নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তপ্ত পাহাড়। কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠকে সটান ‘না’ বলে দিলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান অনিত থাপা। পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দিল্লি থেকে পঙ্কজকুমার সিংহ দার্জিলিঙে পা রাখলেও তাঁকে এড়িয়েই চলল....

পাহাড়ে বৈঠক বয়কট অনিতের, মমতার ‘ভয়’ দেখছে পদ্ম শিবির

নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তপ্ত পাহাড়। কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠকে সটান ‘না’....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তপ্ত পাহাড়। কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠকে সটান ‘না’ বলে দিলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান অনিত থাপা। পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দিল্লি থেকে পঙ্কজকুমার সিংহ দার্জিলিঙে পা রাখলেও তাঁকে এড়িয়েই চলল অনিতের দল। এই বয়কট ঘিরেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভয়েই’ এই আলোচনায় বসতে সাহস পাচ্ছেন না অনিত। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অনিত থাপা জানিয়েছেন, ইস্তাহারে ‘গোর্খাল্যান্ড’ ইস্যু রাখলে তবেই হবে বৈঠক। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে পাহাড়ের রাজনীতিতে এখন দিল্লি বনাম কলকাতার স্নায়ুযুদ্ধ স্পষ্ট।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে পাঁচ দিনের সফরে পাহাড়ে এসেছেন মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিংহ। শনিবার দার্জিলিঙে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক নিরজ জিম্বা। উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলেও সেখানে অনিত থাপার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনিত থাপা সরাসরি রাজু বিস্তাকে নিশানা করে বলেন, ‘যদি রাজু বিস্তা ঘোষণা করেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইস্তাহারে গোর্খাল্যান্ড গঠনের উল্লেখ থাকবে, তা হলে তিনি যেখানে বলবেন সেখানেই মধ্যস্ততাকারীর সঙ্গে দেখা করব।’ অনিতের এই শর্তের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পাল্টা আক্রমণ শানাতে দেরি করেননি দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি অনিত থাপাকে তাঁর পুরনো প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘অনিতদা হয়তো ভুলে গিয়েছেন বিজেপি ইতিমধ্যেই ২০২১-এর নির্বাচনী ইস্তাহারে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।’ বিজেপির দাবি, দল যা কথা দেয় তা পূরণ করার রেকর্ড তাদের আছে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গ হিসেবেই মধ্যস্থতাকারীর এই সফর। রাজু বিস্তার অভিযোগ, আসলে রাজ্য সরকারের নির্দেশ ছাড়া এক পা নড়ার ক্ষমতা নেই অনিত থাপার।

সাংসদ রাজু বিস্তা অনিতের এই অনড় মনোভাবকে সরাসরি তৃণমূলের প্রভাব বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমি জনসমক্ষে তাঁকে মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে দেখা করতে এবং নিজের মতামত জানাতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি কি কলকাতাকে ভয় পাচ্ছেন? তিনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পাচ্ছেন? কেন তিনি মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করছেন? কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা না করে তিনি কার স্বার্থ রক্ষা করছেন?’

নির্বাচনী আবহে এই বাগযুদ্ধ পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মনে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। একদিকে বিজেপি যখন সমাধানের রাস্তা খোঁজার কথা বলছে, তখন অনিত থাপার এই দূরত্ব বজায় রাখা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিংহের সফর ঘিরে যে ঐক্যের ছবি প্রত্যাশিত ছিল, বিমল গুরুংদের উপস্থিতিতে তা আংশিক সফল হলেও অনিতের ‘না’ বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান না কি ভোটের রণকৌশল, কোন পথে হাঁটছে দার্জিলিং, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর