নয়া জামানা,জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের বিচারপ্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরে নবনির্মিত স্থায়ী ভবনে শুরু হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের কাজ। ওই দিন প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতেই এজলাসে শুনানি শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এই অত্যাধুনিক ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।
আদালত সূত্রের খবর, নবনির্মিত এই স্থায়ী ভবনে বিচারপ্রক্রিয়ার সূচনা করতে পারেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এই সূচনালগ্নে প্রধান বিচারপতি নিজে জলপাইগুড়িতে থাকবেন। একটি সূত্র বলছে, কাজের প্রথম তিন দিন তিনি সেখানে বসবেন। আবার অন্য একটি মহলের দাবি, উদ্বোধনের পর টানা ১৫ দিন সার্কিট বেঞ্চে শুনানি করতে পারেন প্রধান বিচারপতি। ইতিমধ্যেই বিচারপতির এজলাস এবং আবাসন চত্বর পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।
পাহাড়পুরের এই নতুন ভবনকে ‘আইনের মন্দির’ বলে আগেই অভিহিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি জানিয়েছিলেন, বিচারের জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে আর কলকাতার দূরত্বের মাশুল গুনতে হবে না। এই স্থায়ী পরিকাঠামো উত্তরবঙ্গের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন দিশা দেখাবে।
বর্তমানে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং— এই পাঁচ জেলা এই সার্কিট বেঞ্চের এক্তিয়ারভুক্ত। তবে দ্রুত মালদহ ও দুই দিনাজপুরকেও এর আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অভিজিত সরকার বলেন, ‘আগামী 11 ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়ে যাবে । আমাদের কাছে তা খুবই আনন্দের । এবার আমরা স্থায়ী বেঞ্চ চাই । উত্তরবঙ্গের সব জেলাকে নিয়েই সার্কিট চলুক, এটাই চাই । এখন আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার,দার্জিলিং, কালিম্পং জেলা নিয়েই সার্কিট চলছে । মালদহ এবং দুই দিনাজপুরও দ্রুত অর্ন্তভুক্তি কেবল সময়ের অপেক্ষা । আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এই তিন জেলাকেও সার্কিট বেঞ্চের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে ।’
পরিকাঠামোগতভাবে এই ভবনটি এখন উত্তরবঙ্গের মানুষের আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্থায়ী ঠিকানার পাট চুকিয়ে পাহাড়পুরের রাজকীয় ভবনে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর দিনটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের আইনজীবি ও সাধারণ মানুষ।