মানস দাস,নয়া জামানা:আর জি করের বহুচর্চিত ‘অভয়া’ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।কলকাতা পুলিশের তিন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন,ঘটনার সময় কার নির্দেশে পুলিশ কাজ করেছিল সেই প্রশ্নের উত্তরও এবার খোঁজা হবে।আর সেই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন,সেই সময় যাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেছেন বা নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁরা কার নির্দেশে এসব করেছিলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।প্রয়োজনে ফোনকল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব তদন্তের আওতায় আনা হবে।এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, তৎকালীন কলকাতা পুলিশের তিন আধিকারিক বিনীত গোয়েন,ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। শুভেন্দুর অভিযোগ,আর জি কর ঘটনার সময় নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করে ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছিল এবং পুলিশের আচরণে সংবেদনশীলতার অভাব ছিল।বিশেষভাবে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,তিনি তখন কলকাতা পুলিশের সরকারি মুখপাত্র ছিলেন না। তা হলে কোন নির্দেশে তিনি প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন ?সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগও সামনে আনেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর দাবি,পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কারা সেই প্রস্তাব দিয়েছিল এবং কেন দিয়েছিল তাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।বিজেপি ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে আর জি কর মামলার নতুন করে তদন্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেই সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে দেখা গেল শুভেন্দুকে।অন্যদিকে,এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন,এই মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত চলছে এবং আদালতের নজরদারিও রয়েছে।তার মাঝখানে নতুন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ করছে কি না সেটাও প্রশ্নের।