নয়া জামানা, কলকাতা : তৃণমূলের প্রকাশিত বিতর্কিত ‘স্টিং অপারেশন’ ভিডিওর সত্যতা নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করে ওই ভিডিও বানানো হয়েছে। আদালতের কাছে হুমায়ুনের আর্জি, ভিডিওর নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। আগামী ২২ এপ্রিল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিল, বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে হুমায়ুনের। সেই ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, বিজেপির কাছে তিনি এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন এবং ২০০ কোটি টাকা অবিলম্বে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিনিময়ে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিতে শোনা যায় তাঁকে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। তখনই হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, এটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর কারসাজি। নিজের আইনি লড়াই প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন বলেন, ‘যাঁরা ষড়যন্ত্র করেছেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বুঝিয়ে দেব, পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলাফল কী হতে পারে! আমাদের আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই লড়াই শুরু করেছেন। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’তৃণমূলের ওই ভিডিওর প্রভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে হুমায়ুনের নির্বাচনী অঙ্ক। ভিডিওতে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘মিম’ সম্পর্কেও বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে হায়দরাবাদের দল। আগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা থাকলেও, ভিডিওটি সামনে আসতেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘মিম’। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, বঙ্গে এবার একাই লড়বে ওয়েইসির দল। সেই অস্বস্তি কাটাতে এবং নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উদ্ধারে এবার আদালতের দরজায় কড়া নাড়লেন হুমায়ুন। এখন দেখার, হাই কোর্টের তদন্তে ভিডিওর নেপথ্যে কী তথ্য উঠে আসে। ফাইল ফটো।
সেলিম-অধীরকে সমর্থন, বামেদের বিদায়, মুর্শিদাবাদে কি কিংমেকার ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ূন ?