নয়া জামানা,কলকাতা : ভবানীপুরের মহারণ ঘিরে পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলায়। আগামী ৮ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, ওই দিন কালীঘাটের নিজের বাসভবন থেকে বিশাল মিছিল করে গোপালনগর সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মহামিছিলে সঙ্গী হতে পারেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি) এবং দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমার। সঙ্গে থাকবেন এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলররাও। তৃণমূলের লক্ষ্য এখন একটাই—মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকেই ভবানীপুরের রাজপথ দখল করা। নেত্রীর মনোনয়ন ঘিরে ওই দিন এলাকায় কার্যত জনজোয়ার নামাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। মনোনয়ন জমা পড়লেই কোমর বেঁধে প্রচারে ঝাঁপাবে দল। বিভিন্ন ওয়ার্ডে হবে আলাদা আলাদা মিছিল ও সভা। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে মমতার নিজের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর। ভারতীয় সংবিধানের জনক বিআর অম্বেডকরের জন্মদিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ওই ওয়ার্ডে প্রথম বড় সভা করবে তৃণমূল। ভোটপ্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত ওই এলাকায় টানা কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি গোটা রাজ্যের নজর কেড়েছে। মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির তুরুপের তাস বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের স্মৃতি উস্কে দিয়ে এবার ভবানীপুরের বুথে বুথে লড়াই দেখবেন রাজ্যবাসী। লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই বামেরাও, সিপিএমের হয়ে লড়ছেন শ্রীজীব বিশ্বাস। শুভেন্দু ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিলেও মমতা এখনও নিজের কেন্দ্রে নামেননি। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, ‘মমতার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই ভবানীপুরে প্রচারে ঝাঁপাবে দল।’ বর্তমানে সাংগঠনিক ও অভ্যন্তরীণ কাজে জোর দিচ্ছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। রাজ্যে এবার ভোট হচ্ছে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট হবে ভবানীপুরে। আগামী ২ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করবে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। শুভেন্দু-মমতা দ্বৈরথে শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে এখন থেকেই সরগরম শহর। সব মিলিয়ে, আগামী ৮ এপ্রিল থেকেই ভবানীপুরের লড়াই এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।