নয়া জামানা, কলকাতা : সবুজ ছেড়ে এ বার গেরুয়া কোর্টে লিয়েন্ডার পেজ। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন এই কিংবদন্তি টেনিস তারকা। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে হাতে তুলে নিলেন পদ্ম পতাকা। তাঁর এই দলবদলে পাশে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডারের এই যোগদান বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
লিয়েন্ডারকে স্বাগত জানাতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার তাঁকে ‘বাংলার ছেলে’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘লিয়েন্ডার পেজ় পশ্চিমবঙ্গেরই ছেলে। তাঁকে আমি বিজেপিতে স্বাগত জানাই। বিজেপির জন্য এটি একটি বিরাট বড় মুহূর্ত।’ সুকান্তের দাবি, বাঙালির আবেগের সঙ্গে মিশে রয়েছেন লিয়েন্ডার। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর লিয়েন্ডারকে সামনে রেখে বাংলার যুবসমাজকে কাছে টানতে চাইছে বিজেপি। সুকান্তের কথায়, ‘আগামী নির্বাচনে লিয়েন্ডার পেজ় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর সাহায্য আমরা ভোটের ময়দানেও পাব। হাওয়া যে বিজেপির পালে লাগছে, তারই একটি নিদর্শন হল এই যোগদান।’
রাজনীতির আঙিনায় পা রেখে লিয়েন্ডার পেজ আজ আবেগপ্রবণ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার জীবনের একটি বড় দিন। বিজেপি আমাকে সুযোগ দিয়েছে। দেশ এবং দেশবাসীর সেবা করার জন্য এটি আমার কাছে একটি বড় সুযোগ। ৪০ বছর ধরে আমি দেশের হয়ে খেলেছি। এখন এই নতুন খেলায় আমি সুযোগ পেয়েছি।’ তবে নিজের রাজ্যের পরিকাঠামো নিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়েছে তাঁর গলায়। প্রাক্তন এই অলিম্পিয়ান জানান, ‘আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন ওখানে টেনিসের এত পরিকাঠামো ছিল না। আজও দেশে কোনও ইনডোর টেনিস কোর্ট নেই। এখন আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভাল হয়েছে। তবে ক্রীড়া এবং ক্রীড়া প্রশিক্ষণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।’
সূত্রের খবর, লিয়েন্ডারের বিজেপিতে আসা হঠাৎ করে হয়নি। প্রায় আট মাস আগে থেকেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল তাঁর। গত সপ্তাহে কলকাতার নিউ টাউনের এক অভিজাত হোটেলে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে লিয়েন্ডারের এক গোপন বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনও। ওই হোটেলেই মূলত চূড়ান্ত হয়ে যায় যোগদানের নীল নকশা। এর আগে ২০২১ সালে গোয়া নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। তবে সেখানে তাঁকে সে ভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি।
লিয়েন্ডারের এই দলবদল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, ‘লিয়েন্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। অভিনন্দন (বিজেপি) আপনারা শেষ পর্যন্ত গোয়ার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে খুঁজে পেলেন। পশ্চিমবঙ্গে আরও এক বহিরাগতকে নিয়ে এল বিজেপি।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, লিয়েন্ডারের মতো গ্ল্যামারাস মুখকে সামনে রেখে বাংলার ভোটে বিশেষ ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। এখন দেখার, টেনিস কোর্টের মতো রাজনীতির লড়াইতেও লিয়েন্ডার ‘সার্ভিস’ ধরে রাখতে পারেন কি না।
হাল ছেড়ে দিয়েছিল চিকিৎসকেরা, শ্মশানে যাওয়ার পথে জেগে উঠল ‘ব্রেন ডেড’ মহিলা