নয়া জামানা ডেস্ক : নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে এবার আইনি লড়াইয়ে সুর চড়াল ঘাসফুল শিবির। ট্রাইবুনালের শুনানিতে আবেদনকারীদের সশরীরে বা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে ফের চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যদি কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেন, তবে সেই ভোটারকে যথাযথ কারণ জানাতে হবে। যাতে পরবর্তীকালে ট্রাইবুনালে গিয়ে তিনি নিজের স্বপক্ষে যুক্তি সাজাতে পারেন। এদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর বুধবার রাতে এসআইআর-এর সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। জানা গিয়েছে, মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪৯ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৫০ জনের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনও ঝুলে রয়েছে ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮২৫ জনের ভাগ্য। আগামী ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তালিকায় নাম থাকলে তবেই মিলবে ভোটাধিকার। ৭ এপ্রিলের মধ্যে যাবতীয় ফয়সালা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের চিঠিতে একগুচ্ছ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অফলাইন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার পাশাপাশি ডিএম বা এসডিও অফিসের বদলে বিডিও অফিস থেকেও যাতে আপিল গ্রহণ করা হয়, সেই আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের হাতে প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ তুলে দেওয়া এবং শুনানির দিনক্ষণ আগেভাগে জানানোর দাবিও তুলেছে দল। এর আগে পাঠানো চিঠিতে ১১ জন প্রার্থীর নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিল তারা। এবার দাবি তোলা হয়েছে, কেন নাম বাদ গেল তা কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে এবং ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, সব প্রাক্তন বিচারপতিকে অবিলম্বে অনলাইন ও অফলাইন আপিল পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ট্রাইবুনালগুলি যেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখে মামলার নিষ্পত্তি করে। শীর্ষ আদালতের কড়া বার্তা, ‘আমরা ট্রাইবুনালগুলিকে অনুরোধ করছি, যে নথিগুলি আগে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সামনে পেশ করা হয়নি, সেই নতুন নথি যেন তাঁরা গ্রহণ না-করেন।’ অর্থাৎ, নথির সত্যতা যাচাই না করে কোনও নতুন তথ্য গ্রহণ করা যাবে না।