নয়া জামানা, কলকাতা : ভবানীপুরের ভোট-যুদ্ধে নয়া মোড়। নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়কে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার করা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে কেন এই পদে বসানো হল, তা নিয়ে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই বিতর্কের আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যের আরও ২৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে একযোগে বদল করল নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুরের হেভিওয়েট লড়াইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এবার দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতর এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে জোড়া চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। গত ২৪ মার্চ পাঠানো ওই চিঠিতে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে সুরজিৎ রায়কে।অভিযোগ, তিনি নন্দীগ্রামের বিডিও থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন। যে কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী, সেখানে নন্দীগ্রামের সেই অফিসারকে কেন দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। গত সোমবার ৭৩ জন অফিসার বদলের তালিকায় সুরজিৎ রায়ের নাম থাকায় বিতর্ক আরও দানা বাঁধে। তৃণমূলের এই আপত্তির পরই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিওয়ালাকে পাল্টা চিঠি দিয়ে ভবানীপুরের জন্য তিনজনের নামের প্যানেল চেয়েছে নির্বাচন সদন। কমিশনের এই পদক্ষেপকে শাসক দলের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। এরই মধ্যে গতকাল রাতে ফের বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। যাদবপুর, কাঁথি, হলদিয়া, ময়না ও সোনামুখী-সহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসাররাই মেরুদণ্ড। তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেই কারণেই এই ঘনঘন বদলি বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু ও মমতার দ্বৈরথে ভবানীপুরের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন আতশকাঁচের তলায়। নির্বাচন কমিশনও চাইছে না কোনও বিশেষ আধিকারিককে নিয়ে বিতর্ক জিইয়ে রাখতে। তাই আপত্তির চিঠি পাওয়ার দ্রুত পরেই বিকল্প নাম চেয়ে পাঠিয়ে ভারসাম্য রক্ষার পথে হাঁটল কমিশন।