নয়া জামানা ডেস্ক : ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ এখন কার্যত নওশাদ সিদ্দিকির সেনাপতি। দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রার্থী করল নওশাদ সিদ্দিকির দল ‘অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ)। সোমবার ২৩টি আসনের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করে চমক দিল ‘ভাইজানের দল’। তৃণমূলের ‘তাজা নেতা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুলের এই দলবদল এবং প্রার্থী হওয়াকে ঘিরে সরগরম দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতি । নওশাদ নিজে লড়ছেন নিজের পুরনো কেন্দ্র ভাঙড় থেকেই। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার প্রার্থীতালিকা প্রকাশের কথা জানিয়েছে আইএসএফ।
প্রসঙ্গত,আরাবুল তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল অনেক আগেই । কিছুদিন আগেই তৃণমূলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে আইএসএফে নাম লিখিয়েছেন আরাবুল। ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে এবার ভাঙড়ে পাঠিয়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রু আরাবুল ও শওকতের এই ‘অদলবদল’ এবারের নির্বাচনে সবথেকে বড় চর্চার বিষয়। বিতর্কিত নেতাদের প্রার্থী করা প্রসঙ্গে নওশাদের যুক্তি, ‘যাঁরা ভাল লোক, তাঁরা দলে এসেছেন। অনেক খারাপ লোককেও কাউন্সেলিং করে দলে নেওয়া হয়েছে। কেউ ভুল করে থাকলে সংশোধন করার সুযোগ তাঁকে দেশের সংবিধানই দিয়েছে। যাঁদের দিয়ে খারাপ কাজ করানো হয়েছে, তাদের ভাল করতে হবে। সে জন্য কাউন্সেলিং টিম রয়েছে আইএসএফের।’
আইএসএফের প্রথম দফার তালিকায় রয়েছে দলত্যাগী ও তরুণ মুখ । দেগঙ্গায় তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য মফিদুল হক সাহাজিকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। মধ্যমগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মণ। এছাড়া নদিয়ার পলাশিপাড়ায় শিক্ষক সামসুর আলি মল্লিক ও চাপড়ায় জাকির মণ্ডলকে লড়াইয়ে নামানো হয়েছে। তবে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন রফা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম ও মুরারইয়ে বামেদের প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। যদিও নওশাদের দাবি, সবটাই হয়েছে বামেদের সহমতের ভিত্তিতে।
তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনার সাতটি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি, ক্যানিং পশ্চিম ও মগরাহাট পশ্চিমেও প্রার্থীর নাম রয়েছে। হুগলির হরিপালে শেখ মুজাফ্ফর আলি ওরফে মাজা ও বীরভূমের বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেনকে টিকিট দিয়েছে আইএসএফ। আমডাঙায় তৃণমূল প্রার্থী পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বিশ্বজিৎ মাইতি। নওশাদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে পীরজাদার বিরুদ্ধেও তিনি প্রচারে নামবেন। ভাঙড়ের প্রাক্তন নেতার যোগদান নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য রহস্য জিইয়ে রেখে কোনও মন্তব্য না করে বল ঠেলে দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদকের কোর্টে। জানিয়েছেন, সবটা দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমই বলবেন। আপাতত আরাবুলকে নিয়ে নওশাদের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ হাসি হাসবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।