নয়া জামানা, কলকাতা : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে লিফ্ট বিপর্যয়ে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এ বার হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। অকালমৃত্যুর এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তিন লিফ্টম্যান ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা তদন্তভার হাতে নিলেও হাসপাতালের জরাজীর্ণ নিরাপত্তা ও মেরামতি নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন। শুক্রবার ভোরে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে শৌচালয়ের খোঁজে লিফ্টে উঠেছিলেন অরূপবাবু। অভিযোগ, যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে লিফ্টটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বেসমেন্টে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন তাঁরা। যান্ত্রিক ঘর্ষণে পিষ্ট হয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ফের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় হাসপাতাল চত্বর। বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ় শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। পর পর এই দুটি ঘটনা আরজি করের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করছে ওয়াকিবহালমহল।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার আরজি করের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে যায়। হাসপাতালের এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়কে তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন। অন্যদিকে, সমিতির সদস্য তথা বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষ বিধানসভা ভোটের প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের আশঙ্কায় বৈঠক পিছিয়ে বুধবার করা হয়েছে। এই গড়িমসি নিয়ে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক বাতিল প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ বলেন, ‘ওঁরা ভাবছিলেন যে আমি থাকতে পারব না। তাই বাতিল করেছে। কারণ, স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী আমি নাকি থাকতে পারি না। কারণ, আমি একটি দলের প্রার্থী। আমি বলেছি, রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকটা আপনারা করতে পারেন। কিন্তু এমএসভিপি-কে লিফ্ট বিভ্রাট নিয়ে তদন্তের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। তিনি স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছেন। কিন্তু আমি বলেছি বৈঠক ডাকতে হবে। আগামী পরশু বৈঠক হবে।’ নির্বাচনী বিধি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও অতীনবাবু কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘যাঁরা এই সমস্ত ক্ষেত্রে দায়িত্বে আছেন, তাঁরা দায় এড়াতে পারেন না। লিফ্ট পূর্ত দফতরের অধীনে। সেটা ঠিক মতো না চললে এখানে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের দায় নিতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে না-থাকলে, সেটা তাঁদের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ আধিকারিকদের নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনের পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা ঠিক ভাবে কাজ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন। কোনও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করবে না, আমি স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে কথা দিচ্ছি। এই পর্যায়ক্রমিক পরিদর্শনকে অবিলম্বে শুরু করতে হবে। যেখানে দুর্বলতা ধরা পড়বে, সেখানে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু অনুসন্ধান কমিটি গড়ে দিলে হবে না। মানুষ দেখতে চায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
আরজি কর দুর্নীতি কাণ্ডে এবার জেলে, খোদ অভিযোগকারী সেই আখতার আলি