সায়ন ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম: সমাজে মানবিকতার নজির গড়লেন বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার মাড়গ্রাম থানার অন্তর্গত ছোট্ট একটি গ্রাম লাউরিয়া আর সেই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাহিল শেখ। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে নিজের সযত্নে বড় করে তোলা প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা চুল দান করলেন তিনি।জানা গিয়েছে, কীর্ণাহার এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্পন্দন ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চুল সংগ্রহ করে থাকে। সেই চুল দিয়ে তৈরি করা হয় কৃত্রিম উইগ, যা কেমোথেরাপির কারণে চুল হারানো ক্যানসার রোগীদের দেওয়া হয়। এতে অনেক রোগী নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং মানসিকভাবে কিছুটা হলেও শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন।
এই মানবিক উদ্যোগের কথা অনেক আগে থেকেই জানতেন সাহিল। সেই থেকেই তার মনে জন্ম নেয় চুল দান করার ইচ্ছা। আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি নিজের চুল সযত্নে বড় করতে থাকেন। এই দীর্ঘ সময়ে অনেকের কাছ থেকেই নানা ধরনের মন্তব্য ও কটু কথা শুনতে হয়েছে তাকে। কারণ সাধারণত মহিলাদের চুল দান করতে দেখা গেলেও, একজন যুবকের এইভাবে চুল বড় করে দান করার ঘটনা খুবই বিরল। তবুও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একটুও সরে আসেননি সাহিল।
অবশেষে সম্প্রতি তিনি নিজে বীরভূমের কীর্ণাহারে গিয়ে তার নিজের মাথার প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা চুল কেটে স্পন্দন ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে তার এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।সাহিল শেখ জানান, চুল আমার খুবই প্রিয়। তবে এটা শুধু আমার জন্য নয়। যদি এই চুল কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে, কারও মনে একটু আনন্দ এনে দিতে পারে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। আমরা হয়তো ক্যানসার রোগীদের কষ্ট পুরোপুরি দূর করতে পারব না, কিন্তু সামান্য হলেও তাদের খুশির কারণ হতে পারি। তাই সকলের উচিত এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসা।উল্লেখ্য, সাহিল শেখ সামাজিক মাধ্যমে মজার ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেন এবং ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও তাকে প্রায়ই দেখা যায়।একজন যুবকের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে। সাহিলের এই চুল দান শুধু একটি দানের ঘটনা নয়, বরং এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে ধরা থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।