নয়া জামানা ডেস্ক : বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) দাবিতে সরকারি কর্মীদের ডাকা ধর্মঘটের মোকাবিলায় রণকৌশল স্থির করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনের ডাকা কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। বুধবার অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন কাটা হবে। একইসঙ্গে ওই অনুপস্থিতিকে ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। নবান্নের বার্তা পরিষ্কার,পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে কোনও আপস করা হবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ডিএ না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি অন্দরে। রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়ায় আন্দোলনের পথে হেঁটেছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো সংগঠনগুলি। পাল্টা হিসেবে নবান্ন জানিয়েছে, ১৩ মার্চ কোনও কর্মীকে ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনও ছুটি দেওয়া হবে না। দিনের প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধের জন্য কোনও আবেদন গ্রাহ্য হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ধর্মঘটের দিন হাজিরা বাধ্যতামূলক। তবে মানবিক কারণে কিছু ছাড়ও রাখা হয়েছে। নবান্ন জানিয়েছে, কোনও কর্মী যদি হাসপাতালে ভর্তি থাকেন কিংবা পরিবারের কারও মৃত্যু ঘটে, তবে কড়া নিয়ম কার্যকর হবে না। ১২ মার্চের আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকা বা আগে থেকে অনুমোদিত মাতৃত্বকালীন ছুটি ও চাইল্ড কেয়ার লিভকেও এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলি ছাড়া যে কোনও অনুপস্থিতিকে অবাধ্যতা হিসেবেই দেখছে সরকার। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ওই দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে শোকজ় নোটিস পাঠানো হবে। সেখানে জানতে চাওয়া হবে, কেন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সন্তোষজনক জবাব ও উপযুক্ত নথি দিতে না পারলে বেতন কাটার পাশাপাশি শুরু হবে বিভাগীয় পদক্ষেপ। প্রশাসনের নির্দেশ, আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বন্ধ-ধর্মঘটের সংস্কৃতি রদ করতে সচেষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারও তার ব্যতিক্রম হল না। সরকারি পরিষেবা সচল রাখতে ধর্মঘটের মোকাবিলায় পূর্ণশক্তি নিয়ে নামছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে ডিএ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও কর্মচারীদের সংঘাত এখন তুঙ্গে।