নয়া জামানা ডেস্ক : দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বার কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরাতে একজোট হল বিরোধী শিবির। শুক্রবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব জমা দিলেন সাংসদেরা। তাঁর বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ এবং বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি মেনে এই নোটিশে সই করেছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক থেকে শুরু করে আম আদমি পার্টি ও একাধিক নির্দল সাংসদ। সংসদীয় সূত্রের খবর, লোকসভায় ১৩০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬৩ জন সাংসদের সই সংবলিত এই প্রস্তাব জমা পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অবিজেপি রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগেই মূলত বিদ্ধ জ্ঞানেশ। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গণহারে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষত বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে যোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া এবং ‘জীবিতকে মৃত’ দেখানোর মতো ঘটনায় সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই ইস্যুতে সম্প্রতি কলকাতায় পাঁচ দিনের ধর্নাও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে সরানো হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও সেই ‘ইমপিচমেন্ট’ প্রক্রিয়াই প্রযোজ্য। ‘অসদাচরণ বা অক্ষমতা’ প্রমাণিত হলে তবেই তাঁকে সরানো সম্ভব। আইনত, এই প্রস্তাব দুই কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হতে হবে। জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৬৮ অনুযায়ী, দুই কক্ষেই প্রস্তাব গৃহীত হলে তবেই তদন্ত কমিটি গড়া সম্ভব। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের সঙ্গে ‘গোপন আঁতাঁত’ করে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে বিরোধীদের নাম বাদ দিচ্ছেন জ্ঞানেশ। দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে একাধিকবার নালিশ জানিয়েও সুরাহা না মেলায় শেষমেশ সংসদের দ্বারস্থ হলেন বিরোধী সাংসদেরা। এখন দেখার, স্পিকার এবং চেয়ারম্যান এই নজিরবিহীন প্রস্তাব নিয়ে কী পদক্ষেপ করেন।