ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • পদ্মের ‘আদিবাসী তাস’ মাস্টারস্ট্রোক মমতার, রাজ্যের পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন উন্নয়ন বোর্ড

পদ্মের ‘আদিবাসী তাস’ মাস্টারস্ট্রোক মমতার, রাজ্যের পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন উন্নয়ন বোর্ড

নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের ভোল বদলে দিতে বড়সড় চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করতে পৃথক পাঁচটি ‘উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের কথা ঘোষণা করলেন তিনি।....

পদ্মের ‘আদিবাসী তাস’ মাস্টারস্ট্রোক মমতার, রাজ্যের পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন উন্নয়ন বোর্ড

নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের ভোল বদলে দিতে বড়সড়....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের ভোল বদলে দিতে বড়সড় চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করতে পৃথক পাঁচটি ‘উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুন্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত পাঁচটি পৃথক বোর্ড গঠন করতে চাইছে তাঁর সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিতর্কে বিজেপি যে ‘আদিবাসী আবেগ’ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাকে উন্নয়ন দিয়ে ভোঁতা করতেই এই পাল্টা কৌশল নিলেন তৃণমূল নেত্রী ।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, এই বোর্ডগুলি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীগুলির নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের উন্নয়নের বিষয়টিও দেখবে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৩ সাল থেকেই তাঁর সরকার পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য এই ধরনের বোর্ড গঠন করে আসছে। মমতার কথায়, ‘এই সম্প্রদায়গুলি বাংলার প্রাণবন্ত কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। এই বোর্ডগুলি উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চাকরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের অনন্য ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষা করবে। আরও আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে কাজ করবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মা-মাটি-মানুষের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আমরা যে কোনও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মুখে হাসি ফোটাতে বদ্ধপরিকর।’

নির্বাচনী পাটিগণিতের নিরিখে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য বোর্ড গড়া হচ্ছে, তার মধ্যে মুন্ডা ও কোরা তফসিলি জনজাতিভুক্ত (এসটি)। ডোম সম্প্রদায় তফসিলি জাতিভুক্ত (এসসি) এবং কুম্ভকার ও সদগোপেরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) ভুক্ত। এদের বড় অংশই বসবাস করেন জঙ্গলমহল তথা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে কার্যত একাধিপত্য দেখিয়েছিল বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে অবশ্য তৃণমূল কিছুটা জমি পুনরুদ্ধার করেছিল। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনেই ফুটেছিল জোড়াফুল। তিন বছর পরে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় রাজ্যের শাসকদল। ২০২৪ সালেও পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হলেও ভোট শতাংশ বাড়িয়েছিল তৃণমূল।

এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলকে ‘নিষ্কণ্টক’ রাখতে চায় তৃণমূল। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে এই অঙ্ক আরও জটিল হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ‘আদিবাসী পরিচয়’ সামনে রেখে তৃণমূলকে কোণঠাসার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিতর্কের জেরে তফসিলি সম্প্রদায়ের ভোট আবার বিজেপির দিকে সরে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রকাশ্যে এই সম্ভাবনা আমল না দিলেও পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক মাটি আরও পোক্ত করতে চাইছে তৃণমূল।

তা ছাড়া, এই জনগোষ্ঠীগুলির উপস্থিতি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও লক্ষণীয়। ভোটের অঙ্কে উত্তরবঙ্গের মাটিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের জন্য খুব উর্বর নয়। সেখানেও পদ্মের অগ্রগতি রুখতে চায় রাজ্যের শাসকদল। গত শনিবার ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ‘নিরাপত্তার কারণে’ তা বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং। তিনি পরে বিধাননগরে পৌঁছে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাননি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও যোগী আদিত্যনাথ। সেই সমস্ত আক্রমণের জবাব মুখ্যমন্ত্রী দিলেও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে অস্বস্তি কাটেনি। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূল সাংসদেরা আদিবাসী সমাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাজের খতিয়ান রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদদের আবেদন খারিজ করে দেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দিতে পারছেন না। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ চেয়েছে তৃণমূল। সবমিলিয়ে,উন্নয়নের লক্ষ্যে বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘোষণা রাজনীতির ছোঁয়াচ এড়াতে পারছে না। সরকারিভাবে একে জনহিতকর পদক্ষেপ বলা হলেও, বিরোধীরা একে ভোট আদায়ের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবেই দেখছেন। জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের জনজাতি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে উন্নয়নের এই ঘোষণা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর