নয়া জামানা ডেস্ক : রান্নার গ্যাসের হাহাকার মেটাতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। নবান্নের জারি করা আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা ‘এসওপি’ মেনে শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও জেলায় জেলায় তল্লাশিতে নামলেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (ইবি) আধিকারিকেরা। কোথাও জোগান আটকে কৃত্রিম অভাব তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যগুলিকে তৎপর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এদিকে, ঘাটতির জেরে সুন্দরবনে মৎস্যজীবীদের ট্রলার থমকে গিয়েছে, মিড ডে মিল হচ্ছে কাঠের উনুনে। বৃহস্পতিবার নবান্ন এসওপি জারির পাশাপাশি একটি কন্ট্রোলরুম খুলেছে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত পর্যবেক্ষক কমিটি পেট্রল-ডিজ়েল ও কেরোসিনের মজুত খতিয়ে দেখছে। শুক্রবার লর্ডস মোড় ও মধ্যমগ্রামের বাদুতে গ্যাস গুদামে হানা দেয় পুলিশ। বাদুর গুদামে প্রচুর সিলিন্ডার মিললেও গ্রাহকেরা গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়িতে তো নোটিস টাঙিয়ে বুকিং বন্ধ করা হয়েছে। হুগলিতে মহকুমাশাসক নিজে অভিযানে নেমেছেন। শহরের ডিলারেরা একে ‘প্যানিক বুকিং’ বলছেন। যোধপুর পার্কের এক ডিলার শঙ্করপ্রসাদ নস্কর জানান, ‘আগে আমাদের অফিসে সাধারণ ভাবে ৪০০-৫০০ বুকিং হত। এখন হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ রুবি এলাকার বাসিন্দা অশোককুমার মাহাতোর আক্ষেপ, ‘এক মাস আট দিন হয়ে গিয়েছে। একটাই সিলিন্ডার। গ্যাস শেষ হয়ে এসেছে।’ অনেকে আবার ‘সার্ভার ডাউন’ বলে বুকিং করতে পারছেন না। পোদ্দার নগর হাই স্কুলের সুশান্ত কুমার বাগের দাবি, ‘হস্টেলে ছাত্র আছে, বাধ্য হয়ে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছি।’ গ্যাস নেই সুন্দরবনের ট্রলারে, বন্ধ বসিরহাটের মা ক্যান্টিনও। তবে স্বস্তির খবর বড় হাসপাতালগুলিতে। এসএসকেএম বা আরজি করের মতো জায়গায় পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত আছে বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার তরুণ দে। কেন্দ্র দাবি করেছে আড়াই দিনে গ্যাস ডেলিভারি হচ্ছে, যার প্রতিবাদে শুক্রবার সংসদে সরব হন তৃণমূল সাংসদেরা। রাজ্য সরকার সাফ জানিয়েছে, যাদের একটি মাত্র সিলিন্ডার আছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি হস্টেল ও অঙ্গনওয়াড়িতে জোগান নিশ্চিত করতে ইন্ডিয়ান অয়েল ও এইচপিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভ্রাট রুখতে ৮৫০৫ অফিসার নবান্নের, সুপ্রিম শুনানিতে আজ ফের কোর্টে মমতা !