তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা, বীরভূম: পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রোজার শেষে পবিত্র ঈদ আসে আনন্দ ও ভাগ করে নেওয়ার বার্তা নিয়ে। সেই মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখেই মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাস এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। ঈদকে সামনে রেখে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এলেন তিনি।মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার অন্তর্গত ভাঁড়কাটা গ্রামে পৌঁছে অসহায় প্রবীণ মহিলা, দুস্থ পরিবার এবং অনাথ শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঈদের উপহার সামগ্রী। ঈদের আনন্দ যাতে সমাজের প্রান্তিক ও গরিব মানুষের কাছেও সমানভাবে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এদিন কয়েকশো মহিলাকে শাড়ি ও লুঙ্গি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী হিসেবে বিতরণ করা হয় সেমাই, সরষের তেল, দুধের প্যাকেট, আটা, সুজি ও খেজুর। ঈদের আগে এই ধরনের সহায়তা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়ে ওঠেন এলাকার অসহায় মানুষজন।তবে শুধু এই মানবিক উদ্যোগই নয়, প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যেই মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন আনন্দ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। জমি সংক্রান্ত জটিলতা, নথিপত্রের সমস্যা কিংবা সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করছেন তিনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।উল্লেখ্য, মহম্মদবাজার এলাকায় ইতিমধ্যেই দুইজন বিশ্বাস পদাধিকারী অফিসার মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন তৎকালীন বিডিও সুমন বিশ্বাস এবং মহম্মদবাজার থানার আইসি তপাই বিশ্বাস। তাঁদের কর্মদক্ষতা, মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ এবং সমাজমুখী কাজের জন্য এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন তাঁরা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এলাকা থেকে তাঁদের বিদায়ের সময় সাধারণ মানুষের মন যে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতায় মহম্মদবাজারের ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসও এলাকার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন বলেই মনে করছেন অনেকেই। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, তা নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। ঈদের আগে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনের এক মানবিক মুখও উঠে এসেছে। সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যে বার্তা দিলেন, তা ভবিষ্যতেও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।