নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটার তালিকার জটিলতা কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসছেন ২০০ জন বিচারক। আগামী ৯ মার্চ থেকে তাঁরা মাঠের কাজে নামছেন। অন্যদিকে, রবিবার রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ আর কমিশনের এই তৎপরতায় কার্যত স্পষ্ট,রাজ্যে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে স্বচ্ছতা আনতেই ভিন্ রাজ্যের বিচারকদের তলব করা হয়েছে। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে ১০০ জন করে মোট ২০০ জন বিচারক ৭ মার্চ রাজ্যে পৌঁছাবেন। দু’দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ৯ মার্চ থেকে তাঁরা জেলায় জেলায় কাজ শুরু করবেন। মূলত কলকাতা বিমানবন্দর, শিয়ালদহ, হাওড়া, বর্ধমান, আসানসোল, খড়্গপুর এবং শিলিগুড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। রাজ্য এবং কমিশনের নিয়োগ করা আধিকারিকদের মিলিয়ে মোট ৭৩২ জন বিচারক ভোটার তালিকার অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবেন। উল্লেখ্য, প্রথম দফার তালিকার পর প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য এখনও ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে ঝুলে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।
কমিশনের এই মেগা সফরে সূচি অত্যন্ত ঠাসা। রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছে সোমবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীরা। সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল এবং ২৪টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও দফায় দফায় আলোচনা হবে। মঙ্গলবার হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে থাকবেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডে। দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিএলও-দের সঙ্গে কথা বলে ও সংবাদ সম্মেলন সেরে বিকেলেই দিল্লি উড়ে যাবে কমিশনের টিম। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি লড়াই আর কমিশনের ঠাসা কর্মসূচিতে এখন সরগরম নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসন।