কার্তিক ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম : পূর্ব বর্ধমান জেলার কোটামোড়, পানাগর এলাকা থেকে টানা ছ’দিন রান্নার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় তার জের পড়েছে বোলপুর শহর সহ জেলার নানা প্রান্তে। গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। ফলে সিলিন্ডার না পেয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। এরপর এলাকাভিত্তিক বণ্টনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় গ্যাস। কিন্তু গত ছ’দিন ধরে কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে। এই কর্মবিরতিতে অংশ নেন বোলপুর শহরের গ্যাস সরবরাহকারী কর্মীরা। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি বলে সূত্রের খবর।
এর প্রভাব পড়েছে বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকাতেও। বর্তমানে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম থাকায় গ্যাসের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। অথচ পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না পৌঁছানোয় ডিস্ট্রিবিউটরদের পক্ষে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বহু বাড়িতে গত ছ’দিন ধরে গ্যাস পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।
বোলপুরের বাসিন্দা জয়ন্তী পাল ও উজ্জল সরকার জানান, দশ দিন আগে গ্যাস বুক করেছি। এখনও সিলিন্ডার পাইনি। ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়েছে, ছ’দিন ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস আসছে না। ফলে আমরা সমস্যায় পড়েছি।
এ বিষয়ে বোলপুরের এক ডিস্ট্রিবিউটর নিখিল মজুমদার বলেন, সমস্যা আমাদের নয়। উপরমহল থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না এলে আমরা কীভাবে পরিষেবা দেব? তবে সেলস অফিসার ও রিজিওনাল অফিসাররা আশ্বস্ত করেছেন, দু’-একদিনের মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
যদিও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দাবি, গত কয়েকদিন কিছু আভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, এখনও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পৌঁছায়নি। ফলে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে ছ’দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বোলপুরে সিলিন্ডারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা গ্রাহকদের।