নয়া জামানা ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ভারী হচ্ছে বারুদের গন্ধে। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক নতুন মোড়। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন তাদের জনবহুল শহর তেল আভিভ লক্ষ্য করে বিতর্কিত ‘ক্লাস্টার বম্ব’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এই ধরনের মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ইংরেজি ‘ক্লাস্টার’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল ‘একগুচ্ছ’। এই বোমা কোনো একক অস্ত্র নয়; বরং একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মোড়কের ভেতরে ভরা থাকে অনেকগুলো ছোট ছোট শক্তিশালী বোমা। যখন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছোড়া হয়, তখন মাঝ আকাশেই (মাটি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উচ্চতায়) এর মুখ খুলে যায়। ফলে ভেতরের ছোট বোমাগুলো বৃষ্টির মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইজরায়েলি সেনার দাবি, সম্প্রতি ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে অন্তত ২০টি ছোট বোমা তেল আভিভ ও তার আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমার বিশেষত্বই একে মারাত্মক করে তোলে। এর মধ্যে থাকা সব বোমা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে ফেটে যায় না। অনেক বোমা দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে এবং পরে কোনো মানুষ বা যানবাহনের সংস্পর্শে এলে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে জনবহুল এলাকায় এই বোমার প্রভাব কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা অনেকটা ল্যান্ডমাইনের মতো কাজ করে। না জেনেই সাধারণ মানুষ এর কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে পারেন।
এই মারণাস্ত্রের উৎস নিয়ে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া বা চিন কি নেপথ্যে থেকে ইরানকে এই প্রযুক্তি বা অস্ত্র সরবরাহ করছে? যদি সত্যিই কোনো পরাশক্তি ইরানকে সরাসরি এই অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে, তবে আগামী দিনে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই অস্ত্র ইরানের হাতে নতুন নয়। গত বছরের সংঘর্ষের সময়ও তাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।২০০৮ সালে ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশন’ চুক্তির মাধ্যমে ১১১টি দেশ ও ১২টি সংস্থা এই বোমার ব্যবহার ও মজুত নিষিদ্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, বিশ্বের প্রধান তিন সামরিক শক্তি—আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরান—এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা সরবরাহ করেছিল আমেরিকা। ফলে আন্তর্জাতিক আইন থাকলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রয়োগ থামানো যাচ্ছে না।