সায়ন ভান্ডারী, নয়া জামানা,বীরভূম: পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখেও দায়িত্ব পালনে কোনও খামতি রাখছেন না রেশমা পারভীন। তিনি সাব ট্রাফিক গার্ডের এলএইচজি হিসেবে কর্মরত। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে প্রতিদিনই তাঁকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়।রামপুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে প্রায়শই ডিউটিতে থাকেন রেশমা। সকাল থেকেই এই মোড়ে বাস, অটো, মোটরবাইক ও ছোট গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সব মিলিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময়ই ব্যস্ত থাকে এলাকা। সেই ভিড়ের মধ্যেই নির্ধারিত পোশাক পরে হাতে বাঁশি নিয়ে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একদিকে যানবাহন থামানো এবং অন্যদিকে নিয়ম মেনে ছেড়ে দেওয়ার কাজ সামলান তিনি। তাঁর তৎপরতায় যান চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।তবে শুধু পাঁচমাথা মোড়েই নয় ডিউটির প্রয়োজন অনুযায়ী রামপুরহাট শহরের গ্যাস গুলি এলাকা কোর্টের গলি এবং দেশবন্ধু রোড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলেও তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। যেখানে যানজটের সম্ভাবনা বেশি বা ভিড় বাড়ে, সেখানেই তাঁকে মোতায়েন করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন রেশমা।ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতেও তাঁকে সক্রিয় ভূমিকা তেই দেখা যায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী ও স্কুল পড়ুয়াদের রাস্তা পার করাতে প্রয়োজনে নিজেই এগিয়ে যান। ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখেন তিনি। তীব্র রোদ, গরম হাওয়া কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি কোনও প্রতিকূল আবহাওয়াই তাঁর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
রমজানের রোজা রেখে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। তবু কর্তব্যবোধকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন রেশমা পারভীন। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এ ধরনের কর্মীদের আন্তরিক উপস্থিতিই শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সচল রাখে। নীরবে, নিয়মিতভাবে নিজের কাজ করে যাওয়াই তাঁর পরিচয়, যা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে চলেছে।