অঞ্জন শুকুল,নয়া জামানা, নদীয়া : দোল ও হোলি উপলক্ষে ভেষজ আবীর তৈরি করে তাক লাগাচ্ছেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের চন্দননগর এল এস সমবায় সমিতির গোষ্ঠীর মহিলারা।ভেষজ আবির মূলত ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব রঙের পুনর্জাগরণের ইতিহাস যা ত্বকের ক্ষতি কমাতে অ্যারারুট ফুলের পাপড়ি গাঁদা,পলাশ ,নিমপাতা ;সবজির মধ্যে বিট,গাজর হলুদ দিয়ে তৈরি হয়। যদিও প্রাচীনকাল থেকেই প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহারের প্রচলন ছিল। আধুনিক রাসায়নিক আবিরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে প্রায় এক যুগ আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা এই ভেষজ আবির ফিরিয়ে আনেন।ভেষজ আবির তৈরির জন্য অ্যারারুট পাউডারের সাথে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণের নির্যাস ফুটিয়ে তারপর শুকিয়ে ও চালুনিতে ছেঁকে এই রঙিন আবির তৈরি করা হয়। গোলাপ,গাঁদা,পলাশ ফুলের পাপড়ি ,বিট, গাজর হলুদ ও নিম পাতা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এই আবির তৈরি করা হচ্ছে। গোষ্ঠীর এক মহিলা সদস্য প্রিয়া মন্ডল বলেন কেমিক্যালযুক্ত আবির থেকে ত্বকের সমস্যা ও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি থাকে ,এমনকি চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে । তাই রাসায়নিক আবিরের বিকল্প হিসেবে ভেষজ আবির নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর । তাই আমরা নিজেদের বাগানের কেমিক্যাল বিহীন বিভিন্ন ধরনের ফুল নিয়ে এসে গোষ্ঠীর মহিলারা মিলে ভেষজ আবীর তৈরি করছি ।যদিও আমরা জানি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন, নদীয়ার বিভিন্ন এলাকায় স্বয়ম্বর গোষ্ঠীর মহিরারা এই ভেষজ আবির তৈরি করে স্বনির্ভর হচ্ছেন এবং এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ।ঐতিহ্য গতভাবে বসন্তোৎসবে বা হোলিতে এই প্রাকৃতিক রং ব্যবহারের প্রচলন ছিল যা সময়ের সাথে সাথে কেমিক্যাল আবিরের কাছে স্থান হারালেও বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতার কারণে এটি পুনরায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে। গোষ্ঠীর অপর মহিলা বিপাশা মজুমদার বলেন আমরা ফুলের পাশাপাশি গাজর বিট, নিম পাতার মত পরিবেশবান্ধব জিনিস দিয়ে ভেষজ আবির তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।এই বছর আমরা নতুনভাবে এই কাজ করাই যে পরিমাণ আবির তৈরি করতে সফল হয়েছি সবটায় স্বয়ম্বর গোষ্ঠীর মহিলারা নিয়ে গিয়ে এলাকায় আত্মীয়-স্বজন পরিবারদের মধ্যে পরিবেশন করে আর্থিকভাবে সফল হয়েছে। সমবায় সমিতির সম্পাদক অপূর্ব প্রসাদ বিশ্বাস বলেন আমাদের গোষ্ঠীর মহিলারা যেভাবে বিভিন্ন ধরনের ফুল ,গাছের পাতা, বিট ,গাজর দিয়ে সুগন্ধযুক্ত আবির তৈরি করেছেন সত্যিই তা প্রশংসনীয়। আমাদের মেয়েরা সুন্দরভাবে সমাজের উপযোগী আবির তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এর জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও জানান গোষ্ঠীর মহিলারা এখান থেকে আয়ের উৎস খুঁজে পাবেন। চন্দননগর এল এস সমবায় সমিতির ম্যানেজার দেবব্রত বিশ্বাস বলেন আমাদের গোষ্ঠীর মহিলারা সময়ই উপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে থাকেন, এটাও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি আনন্দিত যে তাদের মহিলারা দোল উৎসবে রাসায়নিক আবিরের বিকল্প হিসাবে ভেষজ আবির নিজেরা তৈরি করে সমাজকে নতুন বার্তা দিচ্ছে মানুষের ক্ষতি করা জিনিস থেকে বিরত থাকার জন্য। তিনি গর্বিত তার সমবায় সমিতির মহিলারা নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ করতে পারছে বলে।
আরও পড়ুন
দোলে সোনাঝুরিতে আবির খেলা নিষিদ্ধ, পরিবেশ রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ