আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে সভা করতে চলেছে বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের সবুজ সংকেত মেলায় রবিবার নির্ধারিত সূচি মেনেই এই কর্মসূচি পালিত হবে। গেরুয়া শিবিরের প্রস্তাবিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ তথা রথযাত্রার সূচনা করতে ওই দিন দুপুরে কোচবিহারে আসছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। আদালতের রায়ের পরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাসমেলার মাঠে শুরু হয়েছে সভামঞ্চ তৈরির কাজ। বিজেপি সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে কোচবিহারে পৌঁছে প্রথমে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেবেন নিতিন নবীন। তারপর রাসমেলার মাঠের সভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রথযাত্রার সূচনা করবেন তিনি। আসলে এই মাঠের মালিকানা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের হাতে। সভার অনুমতি না মেলায় কয়েক দিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকরা কাজ শুরু করতে পারছিলেন না। শেষমেশ বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপে সেই অনিশ্চয়তা কাটল। এই জয়কে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে পদ্ম শিবির। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন সরাসরি প্রশাসনকে বিঁধে বলেন, ‘এটা তৃণমূলের সরকারের কালচার। তাই বিজেপির জাতীয় সভাপতির সভার অনুমতি দিচ্ছিল না। তাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম আমরা। রাজ্য সরকারের মুখ পুড়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে সভা ও রথযাত্রার সূচনা হচ্ছে।’ যদিও পালটা যুক্তি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেতা পার্থপ্রতিম রায়ের দাবি, ‘ওইদিন এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। মাঠের দু’পাশে দু’টি স্কুল রয়েছে। সভা হলে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই হয়তো প্রশাসন অনুমতি দেয়নি।’ দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতা মহানগর বিভাগে এই কর্মসূচি রাখা হয়নি। কারণ, গোটা সফরের শেষ লগ্নে আয়োজিত ব্রিগেড সমাবেশের মূল দায়িত্ব থাকছে কলকাতার কাঁধেই। ১ মার্চ কোচবিহার ছাড়াও কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা এবং রায়দিঘি থেকে এই যাত্রা শুরু হবে। পরের দিন অর্থাৎ ২ মার্চ ইসলামপুর, হাঁসন, সন্দেশখালি ও আমতা থেকে রথ গড়াবে। আদালতের রায়ে আপাতত স্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। এখন রবিবার কোচবিহারে জনসমাগম কতটা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ফাইল ফটো ।
আরও পড়ুন-