নয়া জামানা, নদীয়া: অবশেষে রাজ্যে প্রকাশিত হলো এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকার প্রথম ভাগ।পরবর্তীতে বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণে বিচারাধীন ভোটারদের সংশোধিত আরও একাধিক তালিকা প্রকাশিত হবে। নির্বাচনের পূর্বে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে। শনিবারের তালিকায় রাজ্যজুড়ে বহু নাম বাদ পড়েছে। বাদের তালিকায় রয়েছে নদীয়া জেলার একাধিক ভোটার। কেন্দ্রীয় ইসি-র বা রাজ্য প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী নদীয়ায় বড় সংখ্যক নাম ব্যাপকভাবে বাদ পড়েছে। নদীয়ায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ভোটারের মধ্যে ২ লক্ষ ৬০ হাজার বিচারাধীন এবং বাকি ১৬ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাধিক। মতুয়া সম্প্রদায় নদীয়ার একটি বড় সমাজ গণনার অংশ, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে। মতুয়ারা নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক। কিছু সময়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির ব্যাপারে বিবাদ ও প্রতিক্রিয়াযর মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে এসআইআর এর পরে অনেকের নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আবেদন ও রাজনৈতিক দাবি উঠেছে। গত বছর খসড়া তালিকায় প্রায় ৪২ হাজারের বেশি মতুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়ে। ফলে এসআইআর নিয়ে গোড়া থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তারা। শনিবারের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখা যাচ্ছে নদীয়ায় মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে নাকাশিপাড়ায় ৩ হাজার ১২৪ জন, কৃষ্ণনগর উত্তরে ৩ হাজার ৭৬ জন এবং শান্তিপুরে বাদ পড়েছে ৮ হাজার ৪২ জন। এছাড়াও রানাঘাট দক্ষিণ, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম মিলিয়ে বাদের সংখ্যা প্রায় কুড়ি হাজারের কাছাকাছি। যদিও মতুয়াদের মুখ তথা কেন্দ্রীয় সাংসদ শান্তনু ঠাকুর প্রথম থেকেই মতুয়া ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন যে কেউই যেন আতঙ্কিত না হয়। শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও তিনি তার মত পাল্টাননি, উনি জানিয়েছেন কারোরই ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এটা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কোন মতুয়া নাগরিক বাংলাদেশ যাবেন না। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়ায় মতুয়া ভোট ব্যাংকের পরিস্থিতি কী টালমাটাল হবে, নাকি পরিবর্তন হবে একেবারে চোখে পরার মত। সেই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
আরও পড়ুন-
৩৩ হাজার নাম বাদ! জীবনতলায় ভোটার তালিকা নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ, কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল