নয়া জামানা, বীরভূম: সামনে বিধানসভা নির্বাচন। শনিবার রাজ্যে প্রকাশিত হবে এসআইআর এর সংশোধিত তালিকা। প্রশাসনিক মহল সূত্রে, সামনের সপ্তাহতেই হয়তো বা প্রকাশিত হতে পারে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তবে তার আগেই বীরভূম জেলা জুড়ে একদিকে বোমা উদ্ধার, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরে বোমাতঙ্কের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই শান্তিনিকেতনের প্রবীণ বাসিন্দা, বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা রক্তপাতহীন নির্বাচনের দাবিতে পথে নামলেন। শুক্রবার সকালে শান্তিনিকেতনের সমবায় সমিতি থেকে ফার্স্ট গেট পর্যন্ত একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।পদযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রবীণ নাগরিকদের সাফ বক্তব্য—আমরা রক্তপাতহীন নির্বাচন চাই। রক্ত মাটিতে নয়, মানুষের প্রয়োজনে লাগুক। রক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কে আসুক। প্রবীণ নাগরিকদের পক্ষে খুশি সরকার বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব, আর সেই উৎসব যেন কোনোভাবেই হিংসার রঙে রঞ্জিত না হয়। প্রবীণদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছেই তাঁদের আবেদন, আসন্ন নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তাঁরা আরও জানান, বর্তমানে রমজান মাস চলায় জেলাজুড়ে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। তার উপর সামনে প্রবল গরমের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা।প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে কিশোর ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচন আসবে যাবে, সরকারও বদলাবে। কিন্তু প্রাণ চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। আসন্ন নির্বাচনে কেউ যেন স্বামী, পুত্র, পিতা, ভাই, বোন বা বন্ধুহারা না হন—এই বার্তা ছড়ানোর জন্যই পদযাত্রা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থেকে প্রবীণদের মত, টিভির পর্দা, খবরের কাগজ ও সামাজিক মাধ্যমে রক্তপাত ও মৃত্যুর খবর তাঁদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। তাই তাঁদের একান্ত আবেদন আসন্ন নির্বাচনে যেন কারও রক্ত না ঝরে, দেশের পবিত্র মাটি রক্তে রঞ্জিত না হয়, রক্ত যেন পৌঁছয় ব্লাড ব্যাঙ্কেই। এই কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। অনেকেই পথের ধারে দাঁড়িয়ে প্রবীণদের সমর্থন জানান।
আরও পড়ুন-
প্রান্তিকের হোটেল থেকে উদ্ধার একাধিক তাজা বোমা, দোলের পূর্বে শান্তিনিকেতনে নাশকতা ছড়ানোর ছক?