সুচিন্ত্য গোস্বামী, নয়া জামানা, বাঁকুড়া: রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেই হালকা মেজাজের এক মজার মুহূর্তে সরগরম হয়ে উঠল বাঁকুড়ার কোতুলপুর সবজি বাজার। দলের ‘দোকান সম্পর্ক’ অভিযানে বাজারে যান রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁকে ঘিরে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। সেই ভিড়ের মধ্যেই এক বৃদ্ধার সরস মন্তব্যে মুহূর্তে হাসির রোল পড়ে যায় চারদিকে।
মাধবী রায় নামে এক বৃদ্ধা সোজাসাপ্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “এই বয়সে বিয়ে করলে একটা মিষ্টি পেলুমনি, একটা কাপড় পেলুমনি! ভোট দেব কী করে?” তাঁর এমন খোলামেলা খোঁচায় উপস্থিত সকলে হেসে ওঠেন। আশপাশের দোকানদার থেকে ক্রেতারা—সবাই তখন মজা উপভোগ করছেন। বৃদ্ধা আরও জানান, নিজের পাকা ঘর না থাকার কথাও তিনি নাকি নেতাকে জানিয়েছেন।
পুরো বিষয়টি কিন্তু অত্যন্ত হালকা মেজাজেই নেন দিলীপ ঘোষ। তিনি হাসতে হাসতে জবাব দেন, “দিদিকে তাড়াও, সব হবে।” আর মিষ্টির প্রসঙ্গে মজা করে বলেন, “মিষ্টি তো দোকানেই আছে!” তাঁর এই উত্তর শুনে আবারও হাসির ঢেউ ওঠে বাজারজুড়ে। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন।
এদিনের কর্মসূচিতে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন। সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গেও আলাপচারিতায় অংশ নেন। তবে রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে বেশি চর্চায় উঠে আসে বৃদ্ধার সেই সরল অথচ রসিক মন্তব্য।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত নেতাদের সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে। রাজনীতির গম্ভীর আবহের মাঝেও হাসি-ঠাট্টার এই পরিবেশ বাজারে এক অন্য রঙ এনে দেয়।
কোতুলপুরের এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরেও সাধারণ মানুষের সহজ কথাবার্তাই কখনও কখনও দিনের সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।