অঞ্জন শুকুল,নয়া জামানা, নদীয়া: শান্তিপুরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝা, যিনি রামায়ণের অমৃতকথা বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁর পবিত্র জন্মভূমি থেকে অযোধ্যা ধাম অভিমুখে শুরু হলো এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক যাত্রা। শ্রী কৃত্তিবাস রাম মন্দির ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই যাত্রা কেবল ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম নয়, বরং দুই পবিত্র ভূমির এক গভীর সেতুবন্ধন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।এই যাত্রার প্রধান উদ্যোক্তা শান্তিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো অযোধ্যা থেকে পবিত্র মৃত্তিকা সংগ্রহ করা। সেই পুণ্য মাটি শান্তিপুরের শ্রী কৃত্তিবাস রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্রে নিয়ে আসা হবে এবং সেখানকার পবিত্র ভূমির সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক মিলন ঘটানো হবে।ধর্ম ও ইতিহাসের মিলনক্ষেত্র
শান্তিপুর প্রাচীনকাল থেকেই তার বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতি এবং পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, অযোধ্যা হলো শ্রী রামচন্দ্রের লীলাভূমি। মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার ‘শ্রীরাম পাঁচালী’র মাধ্যমে বাঙালির হৃদয়ে রামকথা জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। আজ সেই কবির জন্মমাটি থেকে রামলালার জন্মভিটে পর্যন্ত এই যাত্রা বাংলার ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন,
কৃত্তিবাস ওঝা এবং শ্রী রামচন্দ্রের নাম অবিচ্ছেদ্য। শান্তিপুরের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে অযোধ্যার আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে যুক্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই মৃত্তিকা মিলন শান্তিপুরকে এক নতুন আধ্যাত্মিক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।শহরের ভক্তকূল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মহিলাদের উলু এবং শঙ্খধ্বনি এবং জয় শ্রী রাম ধ্বনির মধ্য দিয়ে এই পুণ্য যাত্রার সূচনা হয়।শান্তিপুর সেবা সংঘ তাদের পতাকা দেখিয়ে সংস্কৃতির ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করে।
আরও পড়ুন-
শুনানিতে গরহাজির লক্ষ লক্ষ ভোটার, বঙ্গে কি তবে পিছোচ্ছে ভোট-ঘোষণা?