নয়া জামানা, কলকাতা : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ আতঙ্কে রাজ্যে প্রাণ হারানো ৬১ জনের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার । মৃতদের পরিবারের এক সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে চাকরি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর,আগামী সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই মানবিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
রাজ্য সরকারের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর ও বর্ধমানসহ প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই চাকরিপ্রাপকরা রয়েছেন। সবথেকে বেশি নিয়োগ হচ্ছে মুর্শিদাবাদে, সেখানে ১১ জন চাকরি পাচ্ছেন। এছাড়া জলপাইগুড়ি, মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেও ৫ জন করে নিয়োগপত্র পাবেন। তালিকায় রয়েছে কলকাতাও। নবান্ন সূত্রের খবর, মূলত পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে যে পরিবারগুলি ঘোর আর্থিক সংকটে পড়েছিল, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গত বছর থেকেই ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর পানিহাটির আগরপাড়ায় প্রদীপ কর নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি তল্লাশিতে তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য এনআরসি দায়ী’। পরিবারের দাবি ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এরপর একে একে টিটাগড়, অশোকনগর ও দেগঙ্গার মতো এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে যেমন সাধারণ মানুষ রয়েছেন, তেমনই অতিরিক্ত কাজের চাপে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিএলও-ও।
গোটা পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, কমিশনের অপরিকল্পিত কাজের চাপেই এই প্রাণহানি। প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হতে চলেছে। নবান্ন মনে করছে, এই কর্মসংস্থান শোকার্ত পরিবারগুলোকে নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ জোগাবে। ফাইল ফটো।
আরও পড়ুন-