নয়া জামানা ডেস্ক : বঙ্গে নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপি সমর্থক ও বুথ লেভেল আধিকারিকদের মধ্যে নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক মহিলা আধিকারিক মারধর ও শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিএলও সংগঠনের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন কাজের চাপে একাধিক সহকর্মীর অকালমৃত্যুর প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁরা এদিন শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরপরই বিজেপির পতাকা হাতে একদল সমর্থক তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ মেনে চলা তাঁদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে লাঠি ও জলের বোতল নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি মহিলা কর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে। এতে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নেতা শিশির বাজোরিয়া মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, পূর্ব অনুমতি নিয়েই তাঁদের প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিএলও পরিচয় দিয়ে একদল লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রবেশদ্বার আটকে বিক্ষোভ দেখায়। বিজেপি নেতার দাবি, তাঁদের লক্ষ্য করে জুতো ছোড়া হয়েছে এবং পুলিশ সেখানে স্রেফ ‘নিষ্ক্রিয় দর্শক’ হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। একে ‘চরম নিন্দনীয়’ ও ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যেখানে বিএলওরা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছেন, সেখানে বিজেপি পাল্টা পুলিশি গাফিলতির অভিযোগে সরব। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।