জন্মের শংসাপত্র নেই? নাগরিকত্ব বা পরিচয় প্রমাণে আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই পশ্চিমবঙ্গবাসীর। রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেই প্রামাণ্য নথি হিসেবে সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে রয়েছে একটি জরুরি শর্ত। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড দিলেই চলবে না, ভোটারকে সঙ্গে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় পাশের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেটও। বুধবার বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণে স্বস্তি ফিরল কয়েক লক্ষ মানুষের। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরুতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হলেও মাঝপথে বেঁকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি ছিল, অ্যাডমিট কার্ড এককভাবে প্রামাণ্য নথি হতে পারে না। এই টানাপড়েন নিয়েই এদিন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন প্রবীণ আইনজীবী ডিএস নাইডু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু কি একটি অ্যাডমিট কার্ডই কারও পরিচয়পত্র হতে পারে? এর জবাবেই আদালত পূর্ববর্তী নির্দেশিকার কথা মনে করিয়ে দেয়।
বেঞ্চ সাফ জানায়, ‘24 ফেব্রুয়ারি অর্ডারের তিন নম্বর অনুচ্ছেদে (iii) সি-তে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলা হয়েছে ৷ জন্মের প্রমাণ ও বাবা-মায়ের পরিচয়ের প্রয়োজনে দশম শ্রেণির পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়া যাবে ৷ সঙ্গে পাশের শংসাপত্রও দিতে হবে ৷’ অর্থাৎ পাশের সার্টিফিকেট ছাড়া অ্যাডমিট কার্ডের কোনও আইনি বৈধতা থাকছে না। স্রেফ স্কুলের নথিতে জন্মতারিখ থাকলেই হবে না, সেই পরীক্ষায় ছাত্র বা ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না, সেটিও দেখা বাধ্যতামূলক।
পাশাপাশি, কাজের গতি বাড়াতেও কড়া দাওয়াই দিয়েছে আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে জমা পড়া যে সব নথি এখনও আপলোড হয়নি, সেগুলি ইআরও বা এইআরও-রা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেবেন। এসআইআর-এর বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রয়োজনে ওড়িশা বা ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক আনার বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে নির্ভুল ও স্বচ্ছ হয়, সেদিকেই পাখির চোখ শীর্ষ আদালতের।