অঞ্জন শুকুল,নয়া জামানা, নদীয়া: সুস্থ মহিলাদের লক্ষীর ভান্ডার বৃদ্ধি হলো, সতেজ যুবকরাও পেল বেকার ভাতা ;অথচ যারা বিশেষভাবে সক্ষম -তার পরিবার চলবে মাত্র হাজার টাকাতেই। বৃদ্ধা-বৃদ্ধ, অসহায় লক্ষাদিক পরিবার বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত।কেন্দ্র হোক কিংবা রাজ্য, বাজেটে বরাদ্দ নেই বিশেষভাবে সক্ষমদের! শুধু শারীরিকভাবে নয় সামাজিক এবং সরকারি ক্ষেত্রেও রয়েছে নানান উদাসীনতা, আর তার ফলেই মুখে সহানুভূতি করুণা- দয়া থাকলেও বাস্তবে খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা।রাজ্যে নানান ভাতা বৃদ্ধি হলেও, তারা রইল ব্রাত্য। শুধুমাত্র নদিয়া জেলাতেই লক্ষাধিকের বেশি বৃদ্ধা ও বৃদ্ধরা দুবছর আগে বার্ধক্য ভাতার আবেদন করলেও পাচ্ছেন না কোন ভাতা। প্রতিবন্ধী রাজ্য সংগঠন সারা রাজ্যের বিশেষভাবে সক্ষমদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংগঠনের মাধ্যমে সারা বছর লাগাতার বিভিন্ন গণ আন্দোলন গড়ে তোলেন। সংগঠনের সদস্যরা আক্ষেপের সাথে জানিয়েছিলেন বিগত আট বছরে একটি টাকাও ভাতা বৃদ্ধি হয়নি, যদিও লাগাতার দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে এই মানবিক পেনশন দেওয়া শুরু হয়েছিল এই রাজ্যে।যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে নিয়মিত সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে নানান পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রকল্প চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। রেল, বিমানসহ নানান যাতায়াত এবং পড়াশোনা উচ্চশিক্ষা চাকরি সব ক্ষেত্রেই বেশকিছু সুবিধা চালু রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলেই মনে করে সংগঠন। শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অদ্ভুতভাবে কমে যাচ্ছে, কারণ দৃষ্টিহীন কিংবা মূকবধির ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশুনো করে কিছুই শিখতে পারছে না। যদিও রাজ্য সরকারের সর্বশিক্ষা মিশন থেকে এই বিষয়ে অবশ্য সপ্তাহে দুই একদিন পড়াশোনার ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা অত্যন্ত দূরত্ব হওয়ার কারণে অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা। বেসরকারি বিদ্যালয় দুই একটি জেলাতে থাকলেও তা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ তাই, ব্লকে ব্লকে বিশেষভাবে সক্ষমদের বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করে সংগঠন। নদীয়ার উত্তর সাংগঠনিক জেলার কালিগঞ্জ তেহট্ট করিমপুর চাপড়া কৃষ্ণনগর থেকে শুরু করে নদীয়া দক্ষিণ জেলার শান্তিপুর, রানাঘাট হাঁসখালির হরিণঘাটা চাকদহ, কৃষ্ণগঞ্জসহ আঠারোরিটি ব্লকেই ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেক শান্তিপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিসের সামনে শান্তিপুর ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিবন্ধীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে এক সভার আয়োজন করা হয়, সেখানেই তারা জানান পথ দুর্ঘটনা হোক কিংবা বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা অথবা জন্মগতভাবে বিশেষভাবে সক্ষমদের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে, অন্যদিকে অত্যাধুনিক হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবস্থা। সেই তুলনায় শারীরিকভাবে অসুবিধা সম্বলিত মানুষজনের কথা ভাবা হচ্ছে না অন্যদিকে মানসিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষজনদের অন্ন , বস্ত্র বাসস্থানের কথাও ভাবা হচ্ছে না। এখনো সমাজে বিশেষভাবে সক্ষম বিশেষত মূক এবং বধিরদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। অন্যদিকে নদীয়া জেলার সমস্ত ব্লকেই বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃদ্ধা ও বৃদ্ধরা । সরকারি দপ্তর থেকে জানা গেছে শুধুমাত্র নদীয়া জেলাতেই দু বছর ধরে ভাতা পাচ্ছেন না প্রায় লক্ষাধিক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা। কৃষ্ণগঞ্জ এর বাসিন্দা দীপক সরকার জানান, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকেই প্রায় ২২৬০ জন বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না । পরবর্তীতে নতুন করে আবেদন করার চেষ্টা করলেও দুয়ারে সরকারের তা করা সম্ভব হয়নি।কারণ আমাদের আইডির নাম্বার আগেই পড়ে গিয়েছে অথচ আমরা কোন ভাতার টাকায় পাচ্ছিনে। অথচ লক্ষ্মী ভান্ডার বাড়ানো হয়েছে,যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা চালু করা হচ্ছে । অথচ আমরা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের ভাতা পাওয়ার জন্য? এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি শুভদীপ সরকার বলেন এটা সত্য ঘটনা,আমরা দলগতভাবে এবং সরকারিভাবে বিডিওর কাছে এবং জেলায় ব্যাপারটা জানিয়েছি। এখনো পর্যন্ত তারা ভাতা পাচ্ছেন না । এমনকি একবার যেহেতু আইডি নাম্বার পড়ে গিয়েছে পরবর্তীতে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের মাধ্যমে আমরা তাদের ডকুমেন্টস নিয়ে ব্লকে এবং জেলায় পাঠিয়েছি। । আমরা চাই ক্ষত দরিদ্র পরিবার গুলি তাদের বার্ধক্য ভাতা পাক।পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন খুব শীঘ্রই তারা এই ভাতা পাবেন । এই ব্যাপারে বিজেপির জেলা নেতা অমিত প্রামানিক বলেন শবটায় ঢপের চপ। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে ভোটের বৈতরণী পার হবার চেষ্টা করছে । মহিলাদের ভাতা বাড়িয়েছে এই নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই, তাই বলে ভাতার নামে মানুষকে হয়রানি করার তীব্র প্রতিবাদ আমরা করছি।