নয়া জামানা, কলকাতা : উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ইতি টানল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। বৃহস্পতিবার চতুর্থ সেমেস্টারের অঙ্ক পরীক্ষায় অন্তত ১০ নম্বরের প্রশ্ন পাঠ্যসূচির বাইরে থেকে আসার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবার বড় ঘোষণা করল সংসদ। জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ওই প্রশ্নগুলি যারা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তারা সবাই পুরো নম্বর পাবেন। সংসদ সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক প্রশ্নপত্রে ২বি, ১১বি এবং ১১সি—এই তিনটি প্রশ্ন সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর মধ্যে ২বি প্রশ্নের মান ২ এবং বাকি দুটি প্রশ্নের মান ৪ করে। অর্থাৎ মোট ১০ নম্বর নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। বিষয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি আলোচনার পর সংসদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সংসদ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থই তাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়। তাই এই ১০ নম্বরে কাউকেই বঞ্চিত করা হবে না। যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে বিতর্ক শুধু সিলেবাসের বাইরে থাকা প্রশ্ন নিয়েই থেমে নেই। পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল। নির্ধারিত সময়ে সব উত্তর শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। নারায়ণ দাস বাঙুর মাল্টিপারপাস স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল সাফ জানান, অবকল সমীকরণ বা ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন থেকে যে প্রশ্নটি দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান পাঠ্যসূচিতে নেই। তাঁর কথায়, ‘বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন রেফারেন্স বইতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ওই ধরনের প্রশ্ন বর্তমান সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ তিনি আরও জানান, ৫(এ) নম্বরের ২ নম্বরের প্রশ্নটি ছাড়াও ১১(বি) এবং ১১(সি) নম্বর নিয়ে শিক্ষকদের ঘোর আপত্তি রয়েছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্কের প্রশ্ন নিয়ে যথেষ্ট অভিযোগ আসছে। এমনিতেই এবারে পড়াশোনার এবং ক্লাসের সময় খুব কম পেয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। তার উপর অভিযোগ, সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নের। এমনকী বেশকিছু প্রশ্ন সমাধান করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের এই দফার পরীক্ষা। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৪১৩ জন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চললেও সকাল ৯টা থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর অনিশ্চয়তা কাটাতে সংসদের এই দ্রুত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন-