অঞ্জন শুকুল,নয়া জামানা, নদীয়া: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মসূচি নয়, ধর্মীয় কর্মসূচিতে যোগদান দেওয়ার জন্যই বঙ্গ সফরে এলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বুধবার দুপুর দুটো তিরিশ নাগাদ মায়াপুর ইসকনের হেলিপ্যাডে সেনাবাহিনীর চপারে করে নামেন তিনি। এরপর তাঁর কনভয় পৌঁছে যায় ইসকনের রাধামাধব মন্দিরে। হরিনাম সংকীর্তন এর শব্দ ধ্বনিতে মাতোয়ারা হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দর্শন করেন রাধামাধব কে। পরবর্তীতে পদ্মভবনে গিয়ে ইসকনের কর্তৃপক্ষদের সাথে একত্রিত হন তিনি, এরপর ধর্মীয় মঞ্চে ওঠে সনাতনী ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান উচ্চারণ করতে থাকেন তিনি। ইসকন কর্তৃপক্ষ জানায় এই প্রথম ইসকনের হেডকোয়ার্টারে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলেন।মূলত ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বরস্বতী মহারাজের ১৫২ তম জন্মজয়ন্তী তিথি উপলক্ষে তার এই ধর্মীয় সমাবেশ। স্বাভাবিকভাবেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মায়াপুর ইসকনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গত দু’দিন ধরে। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ছিল মায়াপুর ইসকন চত্বর। উল্লেখ্য, বারো মাসে তেরো পার্বণ নিয়েই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান লেগে থাকে মায়াপুর ইসকনে। সারা বছর দেশি-বিদেশি ভক্ত সমন্বয়ে যাক জমক হয়ে ওঠে প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান। বুধবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল মূল কয়েকটি মন্দির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই ভাবনা ইসকন কর্তৃপক্ষের। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে উঠে সন্ন্যাসী ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বরসতী মহারাজের জীবন কাহিনী সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরলেন অমিত শাহ। হরে কৃষ্ণ বলার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন।তাঁর মুখে শোনা গেল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন কাহিনী। মঞ্চে উঠে অমিত শাহ প্রথমে করলেন শ্রীকৃষ্ণের মন্ত্র উচ্চারণ, এরপর গোটা বিশ্বজুড়ে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব সম্পর্কে তুলে ধরলেন বেশ কিছু তথ্য। সব মিলিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্ত সমাগমের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মায়াপুর ইসকনে প্রবেশ হতেই তাকে পুষ্প স্তবক এবং ফুল চন্দন পরিয়ে বরণ করে নেন ইসকনের মহারাজেরা। প্রশ্ন উঠছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সহ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব একই সাথে মঞ্চে দেখা গেল। এদিন মঞ্চ থেকে রাজনীতিকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলার আগামী দিনের কল্যাণের বার্তাও তুলে ধরেন। তিনি জানান দেশের উন্নতি হোক, সেই কামনা করেই আজকে তিনি ইসকনে। আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে নয়, শ্রীচৈতন্যের ভক্ত হয়ে এখানে এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মায়াপুরের এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক কর্মীরা। বক্তৃতার শেষে তিনি জানান প্রধানমন্ত্রীকেও মায়াপুরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু তিনি আসতে পারলেন না। তবে আজ মায়াপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
আরও পড়ুন-
সংখ্যালঘুরা ক্রিমিনাল নন, দেশের সম্পদ, অগ্নিমিত্রাকে জবাব ফিরহাদ-সিদ্দিকুল্লার