নয়া জামানা, পশ্চিম মেদিনীপুর: বাল্যবিবাহ রুখতে বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্রচার গাড়ি নামানো হয়েছে রাস্তায়। আগামী ১২ দিন ধরে এই গাড়ি জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও ব্লকে ঘুরে বাল্যবিবাহের ক্ষতি, আইন এবং মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেবে।
এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে চ্যাপলিন ক্লাব। গোটা উদ্যোগটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট লিগাল সার্ভিসেস অথরিটি পশ্চিম মেদিনীপুর। মেদিনীপুর আদালত চত্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সচেতনতা অভিযানের সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর আদালতের জেলা জজ সেলিম সাহি এবং ডিএলএসএ-র সচিব সহিদ পারভেজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বার এসোসিয়েশন মেদিনীপুর-এর সেক্রেটারি অনুপ মিশ্র। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন মেদিনীপুর লিগ্যাল এইড ডিফেন্স কাউন্সিলের আইনজীবী জ্যোতির্ময় ঘোষ, অঙ্কুর কর্মকার, অরূপ কুমার রায়, শুভম পাণ্ডে সহ একাধিক আইনজীবী।
ডিএলএসএ দপ্তরের অফিস মাস্টার কবেরী বসু, অ্যাকাউন্ট্যান্ট সৌরিন নাগ এবং অন্যান্য কর্মী ও অধিকার মিত্ররাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সকলেই একসুরে জানান, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। অল্প বয়সে বিয়ে হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং আইনি সমস্যার মুখেও পড়তে হয়।
প্রচার গাড়িটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে জানানো হবে যে, ১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং অধিকার রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হবে।
আয়োজকদের মতে, সচেতনতা বাড়লেই বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা কমানো সম্ভব। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে সফল করবে। আগামী ১২ দিন ধরে এই প্রচারাভিযান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলবে।
আরও পড়ুন-
আমেরিকার পর এবার পশ্চিম এশিয়া! আরও ছ’টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে নয়া দিল্লি