জয়ন্ত দত্ত, নয়া জামানা, মানবাজার:বসন্তের শান্ত সকালে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়াল মানবাজারের বাসুডি গ্রামে। গ্রামের রাস্তায় ছুটে বেড়াতে দেখা গেল দুটি হরিণকে। বুধবার সকালেই এমন অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়, কৌতূহলী মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন বিরল এই দৃশ্য দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পূর্ণবয়স্ক হরিণ এবং একটি ছোট হরিণকে গ্রামের ভেতর দিয়ে দ্রুত দৌড়াতে দেখা যায়। বাসুডির বাসিন্দা পরাণ চন্দ্র বাউরী জানান, তিনি বাড়ির সামনে বসে চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎই চোখে পড়ে রাস্তা পার হচ্ছে দুটি হরিণ। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে দেখান। সবাই অবাক হয়ে যান এমন দৃশ্য দেখে।
ক্রমে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে হরিণ দুটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। গ্রামবাসীদের ভিড় বাড়তে থাকলে তারা রাস্তার ধারের ঝোপ ও জঙ্গলের দিকে চলে যায়। অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তোলার চেষ্টা করেন। তবে এত মানুষের উপস্থিতি এবং হৈচৈয়ে প্রাণীগুলি ভয় পেয়ে পড়ে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনদপ্তরের কর্মীরা। মানবাজার রেঞ্জের বনকর্মীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে হরিণ দুটির গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন। মানবাজার এক নম্বর রেঞ্জের আধিকারিক শঙ্কর বারারি জানান, প্রাণীগুলিকে নিরাপদে নিকটবর্তী জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি গ্রামবাসীদের অনুরোধ করেন, কেউ যেন হরিণগুলিকে উত্ত্যক্ত না করেন বা ধাওয়া না করেন।
বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, খাবারের খোঁজে বা পথ ভুল করে হরিণ দুটি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। আপাতত তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি শান্ত থাকলে খুব শীঘ্রই তারা নিজেদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরে যাবে বলে আশাবাদী বনকর্মীরা।
এই ঘটনাকে ঘিরে বাসুডি গ্রামে এখনো চর্চা তুঙ্গে। অনেকেই বলছেন, এমন দৃশ্য জীবনে এই প্রথম দেখলেন।
আরও পড়ুন-
কাটমানি রুখতে তৎপর পুলিশ, শুভেন্দুর জেলায় চালু হল হেল্পলাইন