গোপাল শীল, নয়া জামানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথস্তরের সংগঠন আরও মজবুত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী পাথরপ্রতিমা এলাকায় ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ । রাজনৈতিকভাবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (তৃণমূল)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় তাঁর সফর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বুথ বিজয় অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রতিটি বুথে সংগঠনকে সক্রিয় করাই মূল লক্ষ্য। এদিন রামগঙ্গা বিজেপি পার্টি অফিসে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “২০২৬–এর আগে আমরা প্রতিটি বুথে পৌঁছতে চাই। মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তাঁর দাবি, গ্রামীণ ও উপকূলবর্তী এলাকায় এখনও রাস্তা, পানীয় জল, কর্মসংস্থানসহ একাধিক মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে। সেই সব ইস্যু নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় দল।
এরপর ধ্রুব বাজারে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে চা-চক্রে অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—“শুধু ভোট নয়, ভোট করাতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি কর্মীদের সারা বছর বুথে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার উপর জোর দেন। তাঁর দাবি, যেসব এলাকাকে এতদিন বিরোধীদের ‘দুর্ভেদ্য’ বলা হতো, সেখানেও ধীরে ধীরে সংগঠন বাড়াচ্ছে বিজেপি।
সফরের ফাঁকে এক স্থানীয় পরিবারের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজও সারেন দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে সময় কাটানো ও খাওয়া-দাওয়া করা জনসংযোগের বার্তাকে আরও জোরদার করে।
এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -র নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বাজারে মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি বন্ধের জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
ভোটের আগে পাথরপ্রতিমার মতো উপকূলবর্তী এলাকায় এই বাড়তি তৎপরতা কতটা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন-