নয়া জামানা ডেস্ক : ঠিক যেন ২০২৪-এর অগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোর পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতেই ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল ওপার বাংলা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনা অভিমুখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঢাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি-কে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছে ‘ইনকিলাব মোর্চা’ নামক একটি সংগঠন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পলটন এলাকায় আততায়ীদের গুলিতে জখম হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল ঢাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে পৌঁছলে উন্মত্ত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় পদপিষ্ট হয়ে এবং পুলিশের লাঠিচার্জে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর।
ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনরোষের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। বিক্ষোভকারীরা একাধিক সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। নতুন করে আক্রমণের মুখে পড়ে ৩২ ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানট। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে এই পর্যায়ের বিশৃঙ্খলা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে রাজপথে নেমেছেন সরকারি কর্মীরাও। তাঁদের দাবি— অবিলম্বে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে নবম পে-স্কেল কার্যকর করতে হবে। বাজারের অগ্নিমূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে। তাঁদের দাবি, পেটে ভাত নেই, মুখে কীসের উন্নয়নের বুলি?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত সরকার গঠনের এই প্রক্রিয়ার ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন গণবিক্ষোভ ইউনূস সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন-
রাস্তার ধারেই বসে চিতাবাঘ! মোরাঘাট জঙ্গলে ফের চিতা বাঘের উপস্থিতি ঘিরে বাড়ল উদ্বেগ