নয়া জামানা, হাওড়া : দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাওড়া পুরনিগমে ভোটের দামামা বাজাতে তৎপর নবান্ন। শনিবার বিধানসভা অধিবেশনের শেষ লগ্নেই পেশ হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’। রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, মূলত আইনি জট কাটিয়ে দ্রুত নির্বাচনের রাস্তা প্রশস্ত করতেই এই পদক্ষেপ। প্রস্তাবিত বিলে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৬ করার কথা বলা হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাশ হওয়ার পর রাজ্যপালের সই মিললেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পথে আর কোনও বাধা থাকবে না বলে মনে করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে এই বিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার দ্বিতীয়ার্থেই এটি আলোচনার জন্য আসবে। ২০১৩ সালের পর হাওড়া পুরসভায় আর ভোট হয়নি। মাঝে বালি পুরসভাকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করা এবং পরবর্তী সময়ে ফের বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে জল অনেক দূর গড়িয়েছিল। রাজভবন ও নবান্নের সংঘাতের জেরে থমকে গিয়েছিল গোটা প্রক্রিয়া। আগের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বালির খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, এ বারের নতুন বিলের মাধ্যমে তার ইতি টানতে চাইছে শাসক দল।
এই বিলে সিলমোহর দিতে সরকার যেমন কোমর বেঁধে নেমেছে, তেমনই বিরোধী শিবিরকেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, দলীয় বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন কোমর বেঁধে বিতর্কে অংশ নিতে। বিশেষ করে পুর প্রশাসনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন বিধায়কদের তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সংশোধনী বিল পাশ হলে ডিলিমিটেশনের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। তার পরেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করতে পারবে কমিশন। একই সঙ্গে শনিবার বিধানসভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিলমোহর পড়তে চলেছে। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে হতে চলেছে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়’। মূলত স্থানীয় মানুষের আবেগ এবং ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত। কৃষ্ণনাথ কলেজের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকা রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বাদ পড়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল জেলা জুড়ে। সেই ভাবাবেগকে মান্যতা দিয়েই নাম সংশোধনের বিল আনছে শিক্ষা দফতর।
সব মিলিয়ে বিধানসভার শেষ দিনটি বেশ সরগরম হতে চলেছে। হাওড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কি এ বার ভোটের মাধ্যমে মিটবে? নবান্নের নজর এখন রাজভবনের দিকে। নতুন বিলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দ্রুত সই করলেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ফাইল ফটো।
আরও পড়ুন-
সন্দীপের নামে ইডির প্রথম চার্জশিট. বিপাকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ আখতারও