নয়া জামানা ডেস্ক : বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়ল পুলিশ প্রশাসনে। উত্তাল পরিস্থিতির জেরেই কি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সানি রাজকে সরিয়ে দেওয়া হল? নবান্ন একে ‘রুটিন বদলি’ বললেও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তাঁর জায়গায় জেলার দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিজ্ঞ আইপিএস ধৃতিমান সরকার। ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুরের মতো জেলা সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। অন্যদিকে, শনিবার থেকেই বেলডাঙার অশান্তির তদন্তভার হাতে নিল এনআইএ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সবুজ সংকেত পেতেই এদিন সকালে বেলডাঙা থানায় পৌঁছে যান ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।
শনিবার রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদলের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের ২৭ জন পুলিশ কর্তাকে এদিক-ওদিক করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি পদে পুষ্পাকে আনা হয়েছে। বারাসত ও বর্ধমান রেঞ্জের আইজি পদেও রদবদল ঘটেছে। শনিবারই রাজ্যের নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার হয়েছেন সুপ্রতিম সরকার। তবে সব ছাপিয়ে চর্চায় সানি রাজ। তাঁকে বর্তমানে এসএস (আইবি) পদে পাঠানো হয়েছে।
বেলডাঙার অশান্তির সূত্রপাত ১৬ জানুয়ারি। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পৌঁছোতেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ার কারণে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ আত্মহত্যার দাবি করেছে। আলাউদ্দিনের দেহ ফিরতেই জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো এবং ট্রেন ভাঙচুরের ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকা। এমনকি কর্তব্যরত এক মহিলা সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগও ওঠে।আদালত এই ঘটনায় আগেই এনআইএ তদন্তের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। শনিবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বেলডাঙা থানায় হাজির হন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কেস ডায়েরি। পুলিশের দাবি ছিল, প্রথম দিনের বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয় দিনের হামলা ছিল ‘পরিকল্পিত’। এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এই হিংসার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন এনআইএ-র মূল লক্ষ্য।