নয়া জামানা ডেস্ক : বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করলেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। শনিবার বিকেলে রাজভবনে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস এবং একনাথ শিণ্ডে।
মারাঠা রাজনীতির আঙিনায় সুনেত্রা ‘বহিনি’ নামেই সমধিক পরিচিত। বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের প্রয়াণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। দলীয় সংহতি বজায় রাখতে প্রফুল প্যাটেল ও ছগন ভুজবলরা তড়িঘড়ি সুনেত্রার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। শনিবার সকালে এনসিপির বিধান পরিষদীয় দলের বৈঠকে ভুজবলই সুনেত্রার নাম প্রস্তাব করেন। বিধায়কদের সর্বসম্মত সমর্থনে তিনি পরিষদীয় দলনেত্রী নির্বাচিত হন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ফড়ণবিসের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপি নেতৃত্ব। ফড়ণবিস এই সিদ্ধান্তে সবুজ সংকেত দেওয়ার পরেই রাজভবনের পথ প্রশস্ত হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথগ্রহণের মাধ্যমে পওয়ার পরিবারের দুই শিবিরের পুনর্মিলনের জল্পনায় ইতি পড়ল। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলের পর ৮ ফেব্রুয়ারি শরদ ও অজিত শিবিরের এক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজিতের প্রয়াণ সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিল। দলের অন্দরে একাংশ শরদ পওয়ার বা সুপ্রিয়া সুলের হাতে রাশ তুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেও, অজিত-অনুগামীরা সুনেত্রাকেই সামনে রেখে এগোতে চাইলেন। এ প্রসঙ্গে শরদ পওয়ারের গলায় অবশ্য অভিমানের সুর স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, এ নিয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে আলোচনাও করেননি। ফলে শরদকে অন্ধকারে রেখেই কি এই চাল? সেই প্রশ্ন এখন মুম্বইয়ের অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
৬২ বছর বয়সি সুনেত্রা বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। তবে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে গেলে তাঁকে দ্রুত বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। অজিত পওয়ার বারামতী কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, স্বামীর ছেড়ে যাওয়া সেই আসন থেকেই নির্বাচনে লড়বেন সুনেত্রা। এর আগে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বারামতীতে সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবুও দলের রাশ হাতে নিতে তাঁর ওপরই ভরসা রাখলেন প্রফুল প্যাটেলরা।
উল্লেখ্য, অজিত পওয়ারের হাতে অর্থ, আবগারি ও ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছিল। এনসিপি নেতৃত্ব এখন মরিয়া যাতে সেই সমস্ত দফতর সুনেত্রার হাতেই ন্যস্ত থাকে। ছগন ভুজবল জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস আমাদের বলেছেন যদি সুনেত্রা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তাতে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো আপত্তি নেই।” অজিত পওয়ার তাঁর কোনো উত্তরসূরি ঘোষণা করে যাননি। তাঁর পুত্র পার্থ পওয়ার ২০১৯-এর হারের পর রাজনীতিতে কার্যত নিষ্ক্রিয়। এই অবস্থায় দলের অস্তিত্ব রক্ষায় সুনেত্রার অভিষেককেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করল এনসিপি। মহারাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে এই বদল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।