নয়া জামানা, কলকাতা : আবারও বঙ্গে পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ডিসেম্বরের সফরের ঠিক এক মাসের মাথায় শুক্রবার রাতেই তিলোত্তমায় নামছেন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা। রাত ৮টা ৫ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা তাঁর। সেখান থেকে সোজা নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে চলে যাবেন তিনি। আগের বার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে গেলেও এবার হোটেলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই ভরসা রাখছেন শাহ। বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সেখানেই তাঁর রণকৌশল নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভা ভোট দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তাই শাহের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। মূলত গত সফরে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা কতটা পূরণ হলো এবং প্রার্থী নির্বাচন থেকে প্রচারের নীল নকশা কী হবে, তা নিয়েই নেতাদের ক্লাস নিতে পারেন তিনি।
শনিবার তাঁর কর্মসূচি ঠাসা। শিল্পাঞ্চল ব্যারাকপুর থেকে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি— একই দিনে দুই প্রান্ত চষে ফেলবেন শাহ। শনিবার সকালে তিনি যাবেন ব্যারাকপুরে। সেখানে আনন্দপুর মাঠে একটি বড় জনসভা করার কথা তাঁর। তার আগে স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও সারবেন। ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে কী বার্তা দেন এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে কী টোটকা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সেখান থেকে সোজা বাগডোগরার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের গোঁসাইপুর উত্তরা ময়দানে বিকেলের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন শাহ। সেখানেও দলীয় কর্মীদের নিয়ে সম্মেলন এবং সভার কথা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে বেছে নিয়ে শাহ আসলে ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চাইছেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ডিসেম্বরের সফরে সবচেয়ে বড় চমক ছিল দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন। প্রায় অন্তরালে চলে যাওয়া প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে শাহের ডাকা বৈঠকেই প্রথম দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকেই দিলীপবাবু আবার সক্রিয়। এবারও শাহের ঝোড়ো সফরে তেমনই কোনও বড় চমক থাকে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। গত মে মাস থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে দফায় দফায় সফর করছেন। সিঙ্গুরে তাঁর সাম্প্রতিক সভার রেশ কাটতে না কাটতেই অমিত শাহের এই আগমন তাৎপর্যপূর্ণ। জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া নীতিন নবীন— দিল্লির একের পর এক হেভিওয়েট নেতা এখন ঘরবাড়ি করে ফেলেছেন বাংলায়।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এলেও লক্ষ্যপূরণ হয়নি। এবার তাই কোনও খামতি রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতার বঙ্গ সফর এবং লাগাতার সাংগঠনিক বৈঠকের সুফল ভোটবাক্সে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার। দিল্লির নেতাদের এই তৎপরতা এবং অমিত শাহের বারংবার আসা প্রমাণ করছে যে, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে বাংলাকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। শনিবারের জোড়া জনসভা শেষে রাতেই দিল্লির বিমান ধরবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সফর বাংলার রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলে দেবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ফাইল ফটো ।