নয়া জামানা ডেস্ক : অসমের ভোটযুদ্ধে এবারও বিজেপির প্রধান অস্ত্র সেই অনুপ্রবেশ ইস্যু। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার অরুণাচল সীমান্ত সংলগ্ন ধেমাজিতে এক সভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, বিগত ২০ বছরের কংগ্রেস শাসনে অসমে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কার্যত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শাহের কথায়, ‘২০ বছরের কংগ্রেস শাসনে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে অসম। বদলে গিয়েছে রাজ্যের জনবিন্যাস।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের সাতটি জেলায় জনবিন্যাস এতটাই বদলে গিয়েছে যে সেখানে এখন বহিরাগতরাই সংখ্যাগুরু। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফের রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহের নিশানায় ছিল মূলত কংগ্রেসের দীর্ঘকালীন শাসনকাল। তিনি সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, রাজ্যে সাতটি জেলায় বর্তমানে ৬৪ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী অবৈধভাবে বসবাস করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘কংগ্রেসের শাসনকালে অসমের জনবিন্যাস সম্পূর্ণরূপে বদলে গিয়েছিল। অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা শূন্য থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৪ লক্ষ। রাজ্যের ৭টি জেলায় অনুপ্রবেশকারীরা হয়ে ওঠে সংখ্যাগুরু।’ তাঁর মতে, এই বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী রাজ্যের মূল বাসিন্দাদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত শক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি আপনারা অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চান তাহলে বিজেপিকে ভোট দিন। এবং তৃতীয়বারের জন্য এখানে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করে এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত শক্তিশালী করুন।’
অনুপ্রবেশ রোধে বিজেপি সরকারের সাফল্যের খতিয়ানও এদিন পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জমি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। শাহের দাবি অনুযায়ী, ‘বিজেপি সরকার আসার পর অসমে ১.২৬ লক্ষ একর জমি অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে।’ অসমের জমি শুধু অসমের মানুষের জন্যই থাকবে, এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে উপজাতি মিসিং সম্প্রদায়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তিনি মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে অনুপ্রবেশ রুখতে এই জনজাতির অবদান অনস্বীকার্য। মিসিং সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘অসমের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এরা কঠোর পরিশ্রমী। অনুপ্রবেশ রোধ করা মিসিং সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। তবে আপনাদের অস্ত্র হাতে নেওয়ার দরকার নেই। আপনাদের কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতিই অনুপ্রবেশকারীদের এখানে আসতে বাধা দিয়েছে।’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অসমের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। পর পর দু’বার ক্ষমতায় থাকা বিজেপি এবারও অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে। অন্যদিকে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া কংগ্রেসও পাল্টা ঘুঁটি সাজাচ্ছে। তবে ধেমাজির সভা থেকে শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জনবিন্যাস রক্ষা করাই হবে গেরুয়া শিবিরের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু। অনুপ্রবেশমুক্ত অসম গড়ার ডাক দিয়ে কার্যত ভোটের লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি— সংগৃহিত ।