নয়া জামানা ডেস্ক : তৃণমূল ও বিজেপিকে রুখতে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যই একমাত্র পথ। তবে সেই জোটে বিতর্কিত হুমায়ুন কবীরের ঠাঁই হবে কি না, তা নিয়ে কার্যত বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বুধবার রাতে কলকাতার এক হোটেলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের বৈঠক বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নওশাদের স্পষ্ট বার্তা, লড়াইটা কেবল ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে নিয়ে হওয়া উচিত।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোটের সমীকরণ কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন সরগরম। ২০২১ সালে বামেদের হাত ধরে আইএসএফ সাফল্যের মুখ দেখলেও বামেরা ছিল শূন্য। এবারও নওশাদ আলিমুদ্দিনের দরজায় বারবার কড়া নাড়ছেন। কিন্তু এরই মাঝে হুমায়ুন কবীরের মতো ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমাধারী নেতার সঙ্গে বামেদের মাখামাখি নওশাদ শিবির মোটেই ভালো চোখে দেখছে না। নওশাদ সরাসরি জোটের শর্ত বা বৈঠকের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও তাঁর ইঙ্গিতে মিশে আছে তীব্র অস্বস্তি।
পড়শি দলের গতিবিধি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নওশাদ সাফ জানান, ‘ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপিকে হারানোটাই মূল লক্ষ্য। তার জন্য যত ধর্মনিরপেক্ষ দল রয়েছে তাদের একজোট হতে হবে। কিন্তু কে কার সঙ্গে জোট করবে বা বৈঠক করবে তা আমি ঠিক করে দিতে পারি না।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি না বললেও নওশাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে হুমায়ুন কবীরের উগ্র ভাবমূর্তি জোটের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে পারে।
বাবরি মসজিদের নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুনের সঙ্গে বামেদের ঘনিষ্ঠতা ভোটের বাক্সে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত নির্বাচনেও জোটের সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। এবার সেলিম-হুমায়ুন বৈঠকের পর নওশাদের এই কড়া অবস্থান কি বাম-আইএসএফ জোটের পথে নতুন কোনও কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে? প্রশ্নটা এখন বিধান ভবনের অন্দরেও ঘুরপাক খাচ্ছে।