নয়া জামানা, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর পরিবারে রাজনৈতিক ভাঙন ধরল। সাংসদের প্রথম স্ত্রী অরুণা মার্ডি বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন। কলকাতার তৃণমূল ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। পারিবারিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াইয়ে এবার খোদ বিজেপি সাংসদের ঘর থেকেই বড় ঝটকা খেল গেরুয়া শিবির।
তৃণমূল ভবনে যোগদানের পর অরুণা মার্ডি তাঁর আগামীর লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সাংসদ-পত্নী হিসেবে নয়, বরং একজন লড়াকু নেত্রী হিসেবেই তিনি নিজের পরিচয় গড়তে চান। তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে তিনি সাফ জানান যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। অরুণার কথায়, ‘দিদির কাজ ভালো লাগে। সেজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁদের কাজের জন্য আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অরুণা এর আগে সিপিএম এবং বিজেপির হয়ে কাজ করলেও কোথাও যোগ্য সম্মান পাননি বলে এদিন অভিযোগ করেন। তিনি জানান, অতীতে তিনি বামেদের মহিলা সমিতির হয়ে কাজ করেছেন। এরপর বিজেপিতে গেলেও সেখানে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তাঁকে। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এতদিন সিপিএমের হয়ে কাজ করেছি। যদিও কোনও ফ্রন্ট বা দায়িত্বে ছিলাম না। মহিলা সমিতির হয়ে কাজ করেছি। আবার বিজেপির হয়েও কাজ করেছি। আমি কোনও জায়গা পাইনি।’ মূলত অবহেলিত আদিবাসী ও জনজাতি শ্রেণির মহিলাদের জন্য কাজ করতেই তিনি তৃণমূলকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা নতুন কিছু নয়— এমনটাই মনে করেন অরুণা। স্বামী খগেন মুর্মু বিজেপির সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি বিরোধী শিবিরে এলেন, সেই প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত সাবলীল ছিলেন। তাঁর মতে, স্বামী এবং স্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা হতেই পারে। স্বামীর দলবদল নিয়ে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি। অরুণা জানান, ‘সবারই একটা আলাদা আলাদা মত থাকে। উনি হয়তো বিজেপি গিয়েছেন, ঠিক আছে। উনি তো সিপিএম থেকেই গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ আমার ভালো লাগে। আমিও আমার মনের ইচ্ছামতো কাজ করব। একই পরিবারে দু’জন আলাদা আদালা দলের হয়ে কাজ করে। সেটা হতেই পারে। আমার সঙ্গে রাজনৈতিক মতের অমিল থাকতেই পারে।’
একইসঙ্গে সাংসদ খগেন মুর্মুকে নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। অরুণার মতে, ভবিষ্যতে খগেন মুর্মুও নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সমাজে পিছিয়ে পড়া এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ের মহিলারা এখনও অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান কর্তব্য। ব্রাত্য বসু এবং বিরবাহা হাঁসদাও অরুণাকে দলে স্বাগত জানিয়ে মনে করেন, তাঁর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও মজবুত করবে। নির্বাচনের ঠিক আগে সাংসদের বাড়ির এই ভাঙন মালদহ তথা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।