ব্রেকিং
  • Home /
  • দেশ /
  • বিলেতেও ভাতের অভাব! তিন দশকে রেকর্ড দারিদ্র্য ব্রিটেনে, বিপাকে প্রবাসী বাঙালিরা

বিলেতেও ভাতের অভাব! তিন দশকে রেকর্ড দারিদ্র্য ব্রিটেনে, বিপাকে প্রবাসী বাঙালিরা

নয়া জামানা ডেস্ক বিলেতের মাটিতে দারিদ্রের হাহাকার এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। আধুনিক ব্রিটেনের ঝকঝকে আবরণের নিচে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে কঙ্কালসার চেহারা। জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট যেন সেই তিক্ত সত্যেই সিলমোহর দিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্র বলছে,....

বিলেতেও ভাতের অভাব! তিন দশকে রেকর্ড দারিদ্র্য ব্রিটেনে, বিপাকে প্রবাসী বাঙালিরা

নয়া জামানা ডেস্ক বিলেতের মাটিতে দারিদ্রের হাহাকার এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। আধুনিক ব্রিটেনের ঝকঝকে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক

বিলেতের মাটিতে দারিদ্রের হাহাকার এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। আধুনিক ব্রিটেনের ঝকঝকে আবরণের নিচে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে কঙ্কালসার চেহারা। জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট যেন সেই তিক্ত সত্যেই সিলমোহর দিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্র বলছে, ব্রিটেনে বর্তমানে ‘অতি দারিদ্রসীমায়’ দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৬৮ লক্ষ মানুষ। গত তিন দশকের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অতিদরিদ্র তালিকার সিংহভাগই দখল করে আছেন ব্রিটেনে বসবাসকারী অনাবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিরা।

রিপোর্টের পরিসংখ্যান রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। ১৯৯৪-৯৫ সালে ব্রিটেনে সামগ্রিক দারিদ্রের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে সেই হার সামান্য কমে ২১ শতাংশে দাঁড়ালেও উল্টো পথে হেঁটেছে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা। আট শতাংশ থেকে লাফিয়ে তা এখন ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের বিপন্ন শৈশব নিয়ে ঘুম উড়েছে গবেষকদের। বর্তমানে সে দেশে প্রায় ৪৫ লক্ষ শিশু চরম দারিদ্রের শিকার। তারা না পাচ্ছে দু’বেলা পেটভরে খাবার, না জুটছে কনকনে শীতে শরীরের ন্যূনতম উষ্ণতা বজায় রাখার পোশাক। অপুষ্টি আর রোগব্যাধি এখন বিলেতের বস্তি এলাকাগুলোর নিত্যসঙ্গী।

জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন ‘অতিদরিদ্র’ পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে বাবা-মা ও তাঁদের দুই শিশু সম্বলিত পরিবারের আয় যদি গড় আয়ের ৪০ শতাংশের কম হয় এবং বাড়িভাড়া বা ঋণের কিস্তি দেওয়ার পর হাতে বছরে ১৬,৪০০ পাউন্ডের কম থাকে, তবেই তাঁরা অতিদরিদ্র। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২০.৬৭ লক্ষ টাকা। বাইরে থেকে এই অঙ্ক বড় মনে হলেও, বিলেতের অগ্নিমূল্য বাজারের নিরিখে এই অর্থে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব। আর এই আর্থিক টানাপড়েনের সবথেকে বড় কোপ পড়ছে অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই কিয়ের স্টার্মারের সরকার। গত নভেম্বরে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভস জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ওপর থেকে কড়া বিধিনিষেধ শিথিলের বার্তা দিয়েছেন। ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার নিয়ম করেছিল, স্বল্প আয়ের পরিবারে তৃতীয় সন্তান থাকলে সরকারি সাহায্য মিলবে না। সেই বিতর্কিত নিয়ম আগামী এপ্রিল থেকে তুলে দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, “দেশের ‘অতিদারিদ্রতা’ কমাতে এটাই যেন সরকারের একমাত্র পদক্ষেপ হিসাবে থেকে না যায়।” সংস্থাটির দাবি, আরও কড়া এবং বহুমুখী পদক্ষেপ না নিলে ব্রিটিশ শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর