নয়া জামানা ডেস্ক
শৈশব কি তবে ফিরতে চলেছে মাঠের ঘাসে? নাকি বইয়ের পাতায়? ছোটদের মুঠোফোন-আসক্তি কাটাতে এবার বেনজির এক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার দেখানো পথে হেঁটে এবার ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে গোয়া এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে কচিকাঁচাদের দূরে সরিয়ে তাঁদের পড়াশোনা আর গঠনমূলক কাজে ফেরাতে চাইছেন নীতিনির্ধারকরা।
গোয়ার পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রোহন খাউন্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিভাবক মহলের লাগাতার অভিযোগ এবং শিশুদের পড়াশোনায় মনযোগের অভাবই এই ভাবনার মূল কারণ। সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ার আদলে আইন তৈরির তোড়জোড় চলছে। রোহন খাউন্টের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে গ্রাস করছে। তিনি বলেন, “তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী করতে এই পদক্ষেপ জরুরি।” বর্তমানে গোয়ার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই কঠিন সিদ্ধান্তের আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্তের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
একই সুর শোনা যাচ্ছে দক্ষিণেও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর সরকারও ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। প্রযুক্তি এবং উন্নয়নের মিশেলে অন্ধ্রপ্রদেশ বরাবরই অগ্রণী, তাই শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় তাঁরাও অস্ট্রেলিয়ার মডেলটিকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে বিশ্বকে চমকে দিয়ে ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামের মতো ১০টি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে অ্যান্টনি আলবানিজ়ের সরকার। ইতিমধ্যেই সে দেশে দশ লক্ষাধিক নাবালকের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর প্রায় ২৯৬ কোটি টাকারও বেশি জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে সেখানে। যদিও বড় বড় আইটি কোম্পানিগুলি একে ‘ব্ল্যাংকেট সেন্সরশিপ’ বলে সমালোচনা করেছে, কিন্তু শিশুদের সুরক্ষায় ভারতের দুই রাজ্য এখন সেই কড়া পথেই হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।