নয়া জামানা:হাতে কাপড় কাচার দিন প্রায় শেষ। এখন শহর থেকে গ্রাম প্রায় সব ঘরেই ঢুকে পড়েছে ওয়াশিং মেশিন।সময় বাঁচালেও অনেকের মাসিক বিদ্যুতের বিল বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে এই যন্ত্র।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতিতে ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার না করলে অজান্তেই বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়।
বিদ্যুৎ দফতরের সূত্রে জানা গেছে,দিনের কিছু সময়কে বলা হয় ‘পিক আওয়ার’, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।এই সময় একসঙ্গে বাড়ি, দোকান ও অফিসে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি খরচও বেশি পড়ে।গরমকালে সাধারণত দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টাকে পিক আওয়ার হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে শীতকালে সকালবেলা বিদ্যুতের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি থাকে কারণ সেই সময় হিটার, গিজার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বেশি ব্যবহার করা হয়। এই সময়গুলিতে ওয়াশিং মেশিন চালালে বিদ্যুৎ খরচ যেমন বাড়ে তেমনই অনেক ক্ষেত্রে মেশিনের কাজ শেষ হতে সময়ও বেশি লাগে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে এমন অফ-পিক সময়ে ওয়াশিং মেশিন চালানোই সবচেয়ে লাভজনক। যেমন দুপুরের দিকে,সন্ধ্যার পর বা গভীর রাতে।এই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ কম থাকে ফলে বিল তুলনামূলকভাবে কম আসে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।

বিল বাঁচাতে মানতেই হবে এই নিয়মগুলি
শুধু সময় নয়, ব্যবহারের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।প্রথমত, সম্ভব হলে ঠান্ডা জলে কাপড় ধোয়া উচিত। কারণ গরম জল তৈরি করতে ওয়াশিং মেশিনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লাগে। সাধারণ কাপড়ের ক্ষেত্রে ঠান্ডা জলেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত,অল্প কয়েকটি কাপড়ের জন্য মেশিন চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।এতে বিদ্যুতের অপচয় হয়। মেশিন প্রায় ভর্তি হলে তবেই চালানো উচিত।
তৃতীয়ত,ড্রায়ারের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো ভালো। ড্রায়ার ওয়াশিং মেশিনের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। রোদে কাপড় শুকোনোই সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়।চতুর্থত,সঠিক পরিমাণ ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা জরুরি।বেশি ডিটারজেন্ট দিলে বেশি ফেনা তৈরি হয় ফলে রিন্সের সময় বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও বৃদ্ধি পায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতনতা জরুরি
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে,সঠিক সময় বেছে নিয়ে এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে শুধু নিজের বিলই কমবে না,সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপও কমবে।এতে ভবিষ্যতে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
অতএব সামান্য সচেতনতাই হতে পারে বড় সাশ্রয়ের চাবিকাঠি আজ থেকেই বদলান অভ্যাস, বাঁচান বিদ্যুৎ,বাঁচান টাকা।