ব্রেকিং

স্বপ্ন

অদিতি চট্টোপাধ্যায় দুচোখ ভরা স্বপ্ন বিরবাহার | তাকেও লেখাপড়া করতে হবে, দাদার মতো শহরে যেতে হবে | মা মা আমি দাদার মতো অনেক অনেক বড়ও হবো, শহরে গিয়ে পড়াশোনা করবো | চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াবো | আরে ওসব বিটি....

স্বপ্ন

অদিতি চট্টোপাধ্যায় দুচোখ ভরা স্বপ্ন বিরবাহার | তাকেও লেখাপড়া করতে হবে, দাদার মতো শহরে যেতে হবে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

অদিতি চট্টোপাধ্যায়

দুচোখ ভরা স্বপ্ন বিরবাহার | তাকেও লেখাপড়া করতে হবে, দাদার মতো শহরে যেতে হবে | মা মা আমি দাদার মতো অনেক অনেক বড়ও হবো, শহরে গিয়ে পড়াশোনা করবো | চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াবো | আরে ওসব বিটি লোকের কাম নাই | বিটি লোকের কাজ শুধু ঘরের কাজ, রান্না করা আর বিয়ে করে সংসার ধর্ম পালন করা | আর ছেলে-পুলে মানুষ করা | উত্তর, বিরবাহার মা হাঁসির | না মা আমি অনেক অনেক পড়াশোনা করতে চাই, বিরবাহা বললো প্রকাশ্যে | ওতো টাকা আমাদের নেই বাপু, আমরা গরিব মানুষ | দেখছিস না তোর বাপ্ আর আমি সারাদিন মাঠে খাটি তবে দুটো খেতে পাই | তার মধ্যে আবার তোর দাদার পড়ানোর খরচ সেও তো কম নয়েক | তার মধ্যে তুই দিনের দিন ধারী হয়ে যাচ্ছিস তোর বিয়েতেও তো কারী কারী টাকা লাকবেক | মেয়েদের সেই পরের ঘরে গিয়েই হাতা খুন্তি ধরতে হয় বাপ, তাই আর ঐসব জেদ করিসনে মা | মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বিয়ে করে ছেলে পুলে মানুষ করবার জন্যেই | ওই সব পড়াশোনার ভূত মাথা থেকে বাদ দে বাপ | যা অনেকক্ষন ধরে বাসনটা পরে আছে ওটা মেজে নে |

মন মরা হয়ে বাসন মাজতে শুরু করে বিরবাহা | না দাদার মতো তাকে মানুষের মতো মানুষ হতেই হবে | তাকেও শহরে গিয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে | কিন্তু এখানে থাকলে এসব হবে না, বাপটা কোনদিন একটা ছেলে ধরে নিয়ে এসে বিয়ে দিয়ে দিবে বটেক | ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ঝোক বিরবাহার | রেজাল্টও খুব ভালো না হলেও পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী সে | ইচ্ছে নার্স হয়ে মানুষের সেবা করার | বিরবাহার বুন্ধদেরও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর খুব শখ | কিন্তু মেয়ে হবার দরুন আর টাকার দরুন কারোর বাড়ির সম্মতি নেই বললেই চলে | হাঁসদা, বিরবাহা, ইমন, সেবারা একদিন গ্রাম ছাড়িয়ে ট্রেনে চেপে পড়লো | না আজ তাদের পায়ে কোনও শিকল নেই আছে কেবলই মুক্তির স্বাদ | স্বপ্ন একটাই জীবনে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করা। শিক্ষিত সমাজের চোখে চোখ রেখে দেখিয়ে দেওয়া মেয়েরাও চাইলে সবকিছু পারে তা সে মাঝ আকাশে প্লেনের ককপিটে চেপে হোক কিম্বা ক্রিকেটের মাঠে ময়দানে। শুধু লক্ষ্য স্থির থাকলে ছেড়া কাথার লাখ টাকার স্বপ্নটাও বাস্তব হয় বৈকি। আর এভাবেই কেবলই ইচ্ছা শক্তির ওপর ভর করে নিয়ে ট্রেনের জানলার ধারে বসে দুচোখে রঙিন
স্বপ্ন বুনতে শুরু করে হাঁসদা, বিরবাহারা। ঝালমুড়ি ঝালমুড়ি শব্দে ভাব কাটলো। জীবনযুদ্ধে এরা যদি পারে তো আমরা কেন পারবো না। পরেরদিন দুটো স্টেশন ছাড়িয়ে রানাঘাটে নেমে বাঁকুড়ার সারেঙ্গির বাড়ি থেকে আনা মুড়ি নিয়ে শুরু হয় জীবন সংগ্রামের নতুন কাহানি। সঙ্গে মজুত টাকা দিয়ে তারা কিনে নেয় ঝালমুড়ি বানানোর যাবতীয় সরঞ্জাম। গাছতলায় শুরু নতুন জীবন, ঝালমুড়ি খাবে গো ঝালমুড়ি। ২০ টাকায় মশলাদার ঝালমুড়ি, ঝাঁঝালো গলায় হাক-ডাক বিরবাহার।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর